‘অপারেশন সিনদুরের পর পাকিস্তানের অস্ত্রসজ্জা উদ্বেগজনক; চীন রয়ে যাচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ’: সিনিয়র নৌসেনা কর্মকর্তা

**EDS: THIRD PARTY IMAGE** In this image posted on Nov. 24, 2025, Chief of the Army Staff (COAS) General Upendra Dwivedi, Western Naval Command Flag Officer Commanding-in-Chief Vice Admiral Krishna Swaminathan and other officials during the commissioning ceremony of INS Mahe, the first of the Mahe-class anti-submarine warfare shallow water craft, at Naval Dockyard in Mumbai. (@indiannavy/X via PTI Photo) (PTI11_24_2025_000317B) *** Local Caption ***

মুম্বাই, ২৭ নভেম্বর (PTI): মে মাসে সংঘটিত অপারেশন সিনদুর–এর পর পাকিস্তান বিশ্বজুড়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেনার তৎপরতা বাড়িয়েছে, যা ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয়। পাশাপাশি চীনের বাড়তি আগ্রাসন ও দ্রুত নৌবাহিনী সম্প্রসারণও দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে, বুধবার জানান ভারতীয় নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ভাইস অ্যাডমিরাল কে. স্বামীনাথন

মুম্বাইয়ে অবস্থিত ওয়েস্টার্ন নৌ কমান্ড–এর প্রধান স্বামীনাথন বলেন, চীনের নৌবাহিনী বিশ্বের বৃহত্তম হয়ে উঠেছে এবং গত দশ বছরে ভারতের মোট নৌবহরের সমান সংখ্যক জাহাজ তারা যুক্ত করেছে।

তিনি ব্রহ্মা রিসার্চ ফাউন্ডেশন আয়োজিত নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন।

তিনি জানান, চীনের তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী ফুজিয়ান–এর কমিশনিং এবং পঞ্চম ও ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রদর্শন তাদের বৈশ্বিক কৌশলগত বার্তার অংশ।

স্বামীনাথন বলেন, “চীন এখনও ভারত মহাসাগর অঞ্চলে ৫-৮টি জাহাজ নিয়মিত মোতায়েন রাখছে।”

এই জাহাজগুলোর মধ্যে যুদ্ধজাহাজ, গবেষণা জাহাজ, স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং ভেসেল এবং মাছ ধরার নৌযান অন্তর্ভুক্ত।

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ চীন সাগরের পাশাপাশি ভারত মহাসাগরেও চীনের আগ্রাসী উপস্থিতি বাড়ছে। তাই চীন ভারতের কাছে একটি দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ হয়েই থাকবে।

অপারেশন সিনদুর: ভারত-পাক সম্পর্কের ‘নতুন সাধারণ’

অপারেশন সিনদুরের সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তান ও পিওকের সন্ত্রাসী ঘাঁটি, পরবর্তীতে একাধিক বিমানঘাঁটিকেও লক্ষ্যবস্তু করে।

এটি ছিল এপ্রিল মাসে পাহালগাম সন্ত্রাসী হামলা—যেখানে ২৬ জন, বেশিরভাগই পর্যটক নিহত হন—তার জবাব।

স্বামীনাথন বলেন, এটি ভারত-পাক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বড় মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

তিনি জানান, পাকিস্তান অর্থনৈতিক সঙ্কট উপেক্ষা করে আগের তুলনায় অনেক বেশি গতিতে অস্ত্র কেনায় মেতে উঠেছে।

“পাকিস্তানের সেনাবাহিনী দেশের বাস্তব পরিস্থিতি ভুলে সারা বিশ্ব থেকে অস্ত্র কেনায় ব্যস্ত,” তিনি বলেন।

পাক–চীন মিলিত ভূমিকা, তুরস্কের উত্থান

অপারেশন সিনদুরের সময় পাকিস্তান ও চীনের প্রকাশ্য সমন্বয় দৃশ্যমান হয়েছে, যা আগে আড়ালেই থাকত।

তাছাড়া পাকিস্তানের সমর্থক ও অস্ত্র–সরবরাহকারী হিসেবে তুরস্কের ভূমিকা নতুন উদ্বেগের বিষয়।

ভারতের সমন্বিত সামরিক সক্ষমতা তুলে ধরা হয়েছে

৭–১০ মে সংঘর্ষের সময় তিন বাহিনীর চমৎকার সমন্বয় দেখানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

এয়ার মার্শাল রাকেশ সিনহা বলেন, বিমানবাহিনী কৌশলগত আঘাত ও নির্ভুল লক্ষ্যভেদে প্রধান ভূমিকা পালন করলেও, তিন বাহিনীর যৌথ পরিকল্পনাই পাকিস্তানকে হতবাক করেছে।

তিনি বলেন, “অপারেশন সিনদুর একটি নতুন বার্তা দিয়েছে—ভারতের বিরুদ্ধে শত্রুপক্ষ কোনও হামলা চালালে, ভারত নিজের সময় ও স্থানে সিদ্ধান্তমূলক জবাব দেবে। কোনও ধরনের পরমাণু হুমকি মানা হবে না।”

তিনি জানান, অপারেশনটি বহুমাত্রিক সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে এবং ভারতের এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম থাকার ফলে ড্রোন ব্যবহারে ভারতের সাফল্য এসেছে।