অভিনেতা সুধীর দালভি লিলাবতী হাসপাতালে গুরুতর সেপসিসে আক্রান্ত: পরিবার ₹১৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে

Sudhir Dalvi, in and as "Shirdi Ke Sai Baba".

অভিজ্ঞ ভারতীয় অভিনেতা সুধীর দালভি, যিনি মনোজ কুমারের ১৯৭৭ সালের ভক্তিমূলক চলচ্চিত্র শিরডি কে সাইবাবা তে শান্ত ও আধ্যাত্মিক সাই বাবার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য আজও দর্শকদের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন, বর্তমানে মুম্বাইয়ের লিলাবতী হাসপাতালে জীবনযুদ্ধে লড়ছেন। ৮ অক্টোবর ২০২৫ থেকে ভর্তি থাকা ৮৬ বছর বয়সী এই অভিনেতা এখন গুরুতর সেপসিস—একটি প্রাণঘাতী সংক্রমণে আক্রান্ত, যা তার শারীরিক অবস্থাকে সংকটজনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ইতিমধ্যেই চিকিৎসা খরচ ₹১০ লক্ষ ছাড়িয়েছে এবং তা ₹১৫ লক্ষে পৌঁছানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে পরিবার আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে, যা ভক্ত ও সহ-শিল্পীদের মধ্যে উদ্বেগ ও সহানুভূতির স্রোত বইয়ে দিয়েছে।

একটি নীরব সংকট জনসমক্ষে এল

দালভির অসুস্থতা শুরু হয় তিন সপ্তাহ আগে, যখন সংক্রমণের লক্ষণগুলি হঠাৎ বেড়ে যায়। ৮ অক্টোবর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্ত্রী সুহাস দালভি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে তারা এক মধ্যবিত্ত পরিবার, সামান্য সঞ্চয় ছাড়া আর কোনও পেনশন বা শিল্পী-কল্যাণ সুবিধা নেই। তিনি বলেন, “আমরা একেবারে সাধারণ পরিবার। সুধীরকে আরও কিছুদিন হাসপাতালে রাখতে হবে, কিন্তু একা এই খরচ আমরা সামলাতে পারছি না।”

এই খবর ২৯ অক্টোবর মুভি টকিজইন্ডিয়া টুডে–এর প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে। বর্তমানে দালভি আইসিইউ-তে নিবিড় চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সেপসিসের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর, দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিবায়োটিক থেরাপি ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

সুধীর দালভির উত্তরাধিকার: সাই বাবা থেকে পর্দার ঋষি পর্যন্ত

সুধীর দালভির ছয় দশকের ক্যারিয়ার এক অনন্য যাত্রা—চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও মঞ্চে একাধিক যুগান্তকারী চরিত্রে অভিনয়। শিরডি কে সাইবাবা তে তাঁর সাই বাবার চরিত্র কোটি মানুষের মনে ভক্তির প্রতীক হিসেবে অমর। ১৯৮৭ সালে রামানন্দ সাগরের ‘রামায়ণ’ ধারাবাহিকে তিনি ঋষি বশিষ্ঠের চরিত্রে গভীরতা এনেছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে শ্যাম বেনেগালের জুনুন (১৯৭৮), যশ চোপড়ার চাঁদনী (১৯৮৯), এবং শেখর কপুরের ব্যান্ডিট কুইন (১৯৯৪)।

৮৬ বছর বয়সে অবসরজীবনের নিঃশব্দ সংগ্রাম যেন এক বেদনাদায়ক বিদ্রূপ—একসময় যিনি করুণার বার্তা প্রচার করতেন, আজ তিনিই করুণার প্রত্যাশী।

শিল্পজগতে প্রতিধ্বনি ও সহায়তার ঢেউ

পরিবারের এই আবেদন বলিউডে আলোড়ন তুলেছে। অভিনেতা ঋষি কপূরের কন্যা ঋদ্ধিমা কপূর সাহনি দ্রুত অনুদান পাঠিয়ে সেই সঙ্গে ট্রোলদের তীব্র সমালোচনা করেন, যারা এই আবেদনকে “নাটক” বলেছিল। তিনি ইনস্টাগ্রামে লেখেন, “সুধীরজিকে দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি—চলুন সবাই মিলে সাহায্য করি।” পোস্টটি ২ লক্ষ লাইক পায়। অভিনেত্রী টিনা ঘাইও বলেন, “সুধীর আঙ্কল আমাদের সাই বাবার আশীর্বাদ দিয়েছেন, এবার আমরাই ফিরিয়ে দিই।”

#PrayForSudhirDalvi হ্যাশট্যাগটি ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ৬ লক্ষেরও বেশি পোস্টে ট্রেন্ড করে, যেখানে ভক্তরা তাঁর রামায়ণ দৃশ্যের ক্লিপ শেয়ার করে এবং পরিবারের শেয়ার করা UPI লিঙ্কের মাধ্যমে সাহায্য পাঠাতে শুরু করে।

ভারতের ৭৮০ ভাষার চলচ্চিত্রজগতে যেখানে প্রবীণ শিল্পীরা প্রায়ই অবহেলিত হন, সেখানে এই ঘটনা শিল্পী-কল্যাণের প্রয়োজনীয়তার প্রশ্নটি নতুন করে তুলেছে।

এক সাই-এর নীরব সংগ্রাম: আশার আলো বিপদের মাঝে

সুধীর দালভির এই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শুধু একটি চিকিৎসা সংকট নয়—এটি স্মরণ করিয়ে দেয় এক উত্তরাধিকারের নিঃসঙ্গ গোধূলি। ভক্তরা যখন তাঁর আরোগ্যের জন্য সাই বাবার আশীর্বাদ প্রার্থনা করছেন, তখন প্রশ্নটি উঠে আসে—দয়া কি দুর্দশাকে পরাজিত করতে পারে?

মানুষের সহমর্মিতার এই স্রোত সেই প্রশ্নের উত্তরে এক অটল ‘হ্যাঁ’-এর প্রতিধ্বনি তোলে—যেখানে ভক্তি ও কর্তব্য চলচ্চিত্রের পবিত্র পরিসরে একসূত্রে বাঁধা পড়ে।

— মনোজ এইচ