
কলকাতা, ১৩ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই) — তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার মহারাষ্ট্রের পুনে জেলায় খুন হওয়া পশ্চিমবঙ্গের এক পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং মৃতের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ঘটনাটি নিয়ে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস ভ্রান্ত তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি।
টিএমসির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পুরুলিয়ায় সুখেন মাহাতোর বাড়িতে গিয়ে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকলের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তদন্তে কোনও গাফিলতি হলে দল পরিবারকে আইনি ও রাজনৈতিক সহায়তা দেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
পরিবারের বাড়ির বাইরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “মহারাষ্ট্র পুলিশকে নিশ্চিত করতে হবে যে পরিবার ন্যায়বিচার পায়। অভিযুক্তরা জামিন পেলে পুলিশকে তার বিরোধিতা করতে হবে।”
আক্রমণের সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, “যদি তারা না পারে, মামলা আমাদের হাতে দিন; আমরা ৫০ দিনের মধ্যে সমাধান করে দেব।” অভিষেক জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাজ্য প্রশাসন ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ এবং কোরেগাঁও ভীমা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে যাতে সমন্বয় রেখে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
তিনি বলেন, “পরশুদিন এই বেদনাদায়ক ঘটনার কথা জানতে পারি। মুখ্যমন্ত্রী শোক ও সমবেদনা জানিয়ে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে মহারাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।” দলীয় ক্রমপর্যায়ে যাকে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে ধরা হয়, সেই সাংসদ এ কথা জানান।
অনলাইনে ঘুরে বেড়ানো একটি ভিডিওর প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক ঘটনাটিকে “বর্বরোচিত” বলে অভিহিত করেন এবং জানান, নিহতের পরিবার ভেঙে পড়েছে।
তিনি জানান, মাহাতোর ভাইয়েরা, যারা কোরেগাঁও ভীমায় একটি অটো-পার্টস ইউনিটে কাজ করতেন, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ হারান এবং পরে মৃত্যুর খবর পান।
পরিবারকে আইনি সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে আদালতে বিষয়টি তোলা হবে বলে তিনি জানান। “কয়েক দিনের জন্য কাউকে গ্রেফতার করাই যথেষ্ট নয়। জামিন পেলে তা বাতিলের আবেদন করতে হবে। আমরা পরিবারকে এই আইনি লড়াইয়ে সাহায্য করব,” তিনি বলেন।
তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ তদন্তাধীন বিষয় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ট্র্যাজেডিকে রাজনৈতিক রূপ দিতে চান না।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েক মাসে বিজেপি-শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ীদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
“আমি আশা করব সাংসদ দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করবেন। মানুষ খুন হচ্ছে, তখন জরুরি পদক্ষেপ কোথায়?”— বলেন তিনি। সব অভিযুক্ত গ্রেফতার না হলে এবং সময়মতো বিচার শুরু না হলে, পরিবার-সহ টিএমসি বিধায়কদের একটি প্রতিনিধিদল মহারাষ্ট্রে যাবে বলেও জানান অভিষেক।
শনিবার বিধানসভা কেন্দ্র, ব্লক ও শহরজুড়ে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে মিছিল করা হবে বলেও তিনি ঘোষণা করেন।
এর একদিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘এক্স’-এ পোস্ট করে এই হত্যাকাণ্ডকে “বিদ্বেষমূলক অপরাধ” বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি লেখেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ওই পরিযায়ী শ্রমিকের হত্যায় তিনি “স্তম্ভিত, ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত”।
তবে পুনে গ্রামীণ পুলিশ জানিয়েছে, মদ্যপ অবস্থায় তর্কাতর্কির জেরে এই খুন হয়েছে এবং ঘটনায় “অন্য কোনও দিক” নেই।
পুলিশের দাবি, ৯ ফেব্রুয়ারি শিকরাপুর থানার অধীন কোরেগাঁও এলাকায় ঘটনাটি ঘটে এবং এ ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিষেকের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি অভিযোগ করেছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যুকে ঘিরে ভ্রান্ত তথ্যের প্রচার চলছে।
কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপির রাজ্য প্রধান মুখপাত্র দেবজিত সরকার বলেন, প্রাথমিক তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ এবং এফআইআরের বিবরণে কোনও ভাষাগত উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত মেলেনি।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের বাইরে বাঙালি শ্রমিকদের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভাষাগত আক্রমণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, যা ভয় তৈরি করতে এবং সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে।
“যে কোনও মৃত্যু বা হিংসার ঘটনা দুঃখজনক এবং দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত, কিন্তু তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কোনও বয়ান তৈরি করা উচিত নয়,” বলেন সরকার। যাচাই করা তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থানের জন্য পরিযান বৃহত্তর আর্থ-সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা কর্মসংস্থান সৃষ্টির বদলে ট্র্যাজেডিকে কাজে লাগাচ্ছে।
বিজেপি মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, “দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রতিবেদন” এবং আগেভাগে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পৌঁছনো বিভিন্ন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বার্থ ও নিরাপত্তার ক্ষতি করতে পারে।
