নয়াদিল্লি, ২৯ মে (পিটিআই): জম্মু ও কাশ্মীরে এবারের বার্ষিক অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার মোট ৫৮১টি সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স (CAPF) কোম্পানি মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে, যার অর্থ প্রায় ৪২,০০০ জওয়ান মাঠে থাকবেন। সরকারি সূত্রে বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এর মধ্যে ৪২৪টি কোম্পানি সরাসরি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে (UT) পাঠানো হচ্ছে। বাকি কোম্পানিগুলি—যার মধ্যে অপারেশন সিঁদুরের সময় পাঠানো প্রায় ৮০টি কোম্পানিও রয়েছে—তাদের পুনরায় মোতায়েন করা হবে যাত্রাপথ, তীর্থযাত্রী এবং শ্রীনগরসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা দিতে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বাহিনীকে “অবিলম্বে” জম্মু ও কাশ্মীরে পৌঁছাতে এবং জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে অবস্থান নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এবারের অমরনাথ যাত্রা শুরু হবে ৩ জুলাই এবং শেষ হবে ৯ আগস্ট। ২২ এপ্রিল পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলার (যেখানে ২৬ জন, বেশিরভাগই পর্যটক, নিহত হন) পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা পরিকল্পনা আরও কড়া করা হয়েছে।
একজন শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, “এবার অমরনাথ যাত্রার জন্য মোট ৫৮১টি সিএপিএফ কোম্পানি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫০-১৬০টি ইউনিট ইতিমধ্যেই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রয়েছে।”
এই কোম্পানিগুলি পাঁচটি বাহিনী—CRPF, BSF, CISF, ITBP ও SSB—থেকে নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কোম্পানিতে গড়ে ৭০-৭৫ জন সদস্য থাকেন।
৫৮১টি কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইউনিট এসেছে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (CRPF) থেকে (২১৯টি), বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF) থেকে (১৪৩টি), সশস্ত্র সীমা বল (SSB) থেকে (৯৭টি), ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশ (ITBP) থেকে (৬২টি) এবং সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (CISF) থেকে (৬০টি)।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও তাঁর আসন্ন জম্মু সফরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবেন।
সিআরপিএফ-এর ডিরেক্টর জেনারেল জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং সম্প্রতি কাশ্মীরে অমরনাথ যাত্রার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেছেন। বিএসএফ ডি.জি. দলজিৎ সিং চৌধুরীও শ্রীনগরে সীমান্ত ও যাত্রার নিরাপত্তা পর্যালোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
৩,৮৮০ মিটার উচ্চতার পবিত্র গুহায় প্রাকৃতিক বরফের শিবলিঙ্গ দর্শনের জন্য ৩৮ দিনের এই যাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। যাত্রা দুটি রুটে হয়—অনন্তনাগ জেলার পাহালগাম থেকে ৪৮ কিমি দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী রুট এবং গন্দারবাল জেলার বালতাল থেকে ১৪ কিমি ছোট কিন্তু খাড়া রুট। যাত্রীরা যে কোনো রুট বেছে নিতে পারেন।

