কলকাতা, ২৮ জুন (পিটিআই) — শনিবার কলকাতায় দক্ষিণ কলকাতা ল’ কলেজে গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে আয়োজিত মিছিল পুলিশ থামিয়ে দেয় এবং তাঁকে ও দলের আরও কয়েকজন নেতাকে আটক করে।
মিছিলটি দক্ষিণ কলকাতা ল’ কলেজের দিকে এগোতে দেওয়া হয়নি, যেখানে ২৫ জুন এক ছাত্রীকে দুই সিনিয়র ও এক প্রাক্তন ছাত্র মিলে কলেজের গার্ডরুমে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ1236।
পুলিশ জানিয়েছে, গড়িয়াহাট মোড়ে মিছিল আটকানো হয় এবং সুকান্ত মজুমদারসহ বিজেপি নেতাদের লালবাজার পুলিশ সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়36।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে মূল অভিযুক্ত মনোজিত মিশ্র, প্রমিত মুখার্জি ও জায়েদ আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার সকালে কলেজের এক নিরাপত্তারক্ষীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে27।
বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগসূত্র রয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে হবে।
সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ করেন, “বাংলায় নারীদের কোনও নিরাপত্তা নেই।” তিনি বলেন, “নারী নির্যাতনের বাড়বাড়ন্তের প্রতিবাদেই আমরা এখানে এসেছি, কিন্তু পুলিশ আমাদের মিছিল করতে দেয়নি। মুখ্যমন্ত্রীকেই এই ঘটনার দায় নিতে হবে।”
মজুমদার আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী শুধু প্রশাসনিক প্রধানই নন, পুলিশ মন্ত্রীও। পুলিশ কর্মীরা তৃণমূল কর্মীর মতো আচরণ করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চান না, আমি এখানে কোনও মিছিল করি।”
বিজেপির পরিকল্পনা ছিল গড়িয়াহাট মোড় থেকে কসবার দক্ষিণ কলকাতা ল’ কলেজ পর্যন্ত ৩ কিমি পদযাত্রা করার।
পরে মজুমদার ও আরও দুই নেতা জামিনের কাগজে সই করতে অস্বীকার করেন।
মজুমদার বলেন, “গত এক মাসে চারবার আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ সিদ্ধান্ত নিয়েছি, জামিনের জন্য সই করব না, সারারাত এখানেই প্রতিবাদে থাকব।”
বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা এই ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন, যারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রিপোর্ট জমা দেবেন23467।
বিপ্লব কুমার দেব, মানন কুমার মিশ্র (উভয়েই সাংসদ), সত্যপাল সিং ও মীনাক্ষী লেখি (প্রাক্তন সাংসদ) এই কমিটিতে রয়েছেন।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিজেপি কর্মীরা প্রতিবাদে পথে নেমেছেন।
বিজেপি ও বিরোধী দলগুলি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে।

