
নতুন দিল্লি, ১৮ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই) — আই-প্যাক অফিস এবং এর পরিচালক প্রাতিক জৈনের দফতরে কয়লা পাচার কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত তল্লাশি অভিযানে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বাধা’র অভিযোগে ইডি যে আর্জি দায়ের করেছে, তার শুনানি মঙ্গলবার ১৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করল সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা জানান, দিনের মধ্যেই একটি জবাবি হলফনামা দাখিল করা হবে। এরপরই আদালত বিষয়টি স্থগিত রাখে।
গত ১৫ জানুয়ারি শীর্ষ আদালত বলেছিল, ইডির তদন্তে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কথিত ‘বাধা’ অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। আদালত এ-ও খতিয়ে দেখার কথা জানায় যে, কোনও গুরুতর অপরাধের তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে কোনও রাজ্যের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা হস্তক্ষেপ করতে পারে কি না। একই সঙ্গে ৮ জানুয়ারি আই-প্যাকে তল্লাশি চালানো ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর স্থগিত করা হয়।
এফআইআর স্থগিত রাখার পাশাপাশি তল্লাশি অভিযানের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করার নির্দেশও দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
ইডির আবেদনের ভিত্তিতে আদালত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ রাজীব কুমার এবং শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের নোটিস জারি করেছিল।
ইডির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী তল্লাশি চলাকালীন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আই-প্যাকের দফতর থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্র বাজেয়াপ্ত করেন এবং তদন্তে বাধা দেন।
ইডি তাদের আবেদনে আরও দাবি করেছে, তল্লাশি স্থলে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি এবং নথি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আধিকারিকদের উপর ভীতি সঞ্চার হয় এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই আবেদনটি ৮ জানুয়ারির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে করা হয়, যখন ইডি কলকাতায় আই-প্যাক এবং তার পরিচালক প্রাতিক জৈনের দফতরে বহু কোটি টাকার কয়লা পাচার কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত অর্থপাচার মামলায় তল্লাশি চালায়।
তল্লাশির সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শীর্ষ তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে আই-প্যাক দফতরে পৌঁছে ইডি আধিকারিকদের মুখোমুখি হন এবং সেখান থেকে নথি সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য কেন্দ্রীয় সংস্থার ‘অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ’-এর অভিযোগ তুলেছেন।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশও ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করেছে।
তৃণমূল কংগ্রেস ইডির ‘বাধা’র অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলের দাবি, তৃণমূলের নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের বিরুদ্ধে ইডির পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল গোপন নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত তথ্য হাতে পাওয়া।
দলটির বক্তব্য, আই-প্যাক তাদের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করে এবং ইডির পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃত তদন্ত নয়, বরং তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি ব্যাহত করা।
কয়েক মাসের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
PTI PKS PKS DV DV
Category: Breaking News
SEO Tags: #swadesi, #News, I-PAC raids: SC adjourns to Mar 18 ED’s plea against ‘interference’ by Mamata Banerjee
