
কলকাতা, ১৩ জানুয়ারি (পিটিআই) রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের দফতর ও সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের বাসভবনে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) যে তল্লাশি চালিয়েছিল, সেই ঘটনার তদন্তে কলকাতা পুলিশ অভিযানে অংশ নেওয়া ইডি আধিকারিকদের পরিচয় যাচাই করছে। জোরপূর্বক প্রবেশ এবং নথি চুরির অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই তদন্ত চলছে বলে এক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা জানান, লাউডন স্ট্রিটে অবস্থিত জৈনের বাসভবনে তল্লাশির সময় আশপাশের কেউ কিছু দেখেছিলেন কি না এবং ইডি আধিকারিকরা কীভাবে ভবনে প্রবেশ করেছিলেন, তা জানার জন্য জৈনের প্রতিবেশীদের বক্তব্য নথিভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “ইতিমধ্যেই কয়েকজন বাসিন্দাকে নোটিস পাঠানো হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে বলা হয়েছে। আমরা জানতে চাই, ওই সকালবেলা বাসিন্দা ও প্রতিবেশীরা কী দেখেছিলেন। ঘটনাক্রম নির্ধারণে তাঁদের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
সিনিয়র কলকাতা পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, “হাউসিং কমপ্লেক্সের সিকিউরিটি রেজিস্টারে ইডি আধিকারিকদের নাম পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন যে, কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা নাকি নিরাপত্তারক্ষীদের ঠেলে মানক প্রবেশ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ভবনে ঢুকেছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, অভিযানের সময় নিরাপত্তারক্ষীদের মোবাইল ফোন জোর করে কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাসভবনে ইডি তল্লাশি চালায়। খবর ছড়িয়ে পড়ার পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে যান।
তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো অভিযোগ করেন, জৈনের বাসভবন ও আই-প্যাকের সেক্টর ভি দফতরে দলের নির্বাচনী কাজকর্ম সংক্রান্ত সংবেদনশীল নথি—কাগজে ও ডিজিটাল উভয় মাধ্যমেই—রাখা ছিল এবং সেগুলি তল্লাশির সময় চুরি হয়ে গেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এগুলি নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক নথি। বেআইনিভাবে সেগুলি নিয়ে যাওয়া হয়েছে।” এর পরই শেক্সপিয়ার সরণি থানায় এবং বিধাননগর ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় ইডির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এরপর থেকেই কলকাতা পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত আরও জোরদার করেছে।
পিটিআই
বিভাগ: ব্রেকিং নিউজ
এসইও ট্যাগস: #স্বদেশী, #সংবাদ, আই-প্যাক প্রধানের বাসভবনে ইডি তল্লাশি নিয়ে তদন্তে প্রতিবেশীদের জবানবন্দি নেবে কলকাতা পুলিশ
