নয়াদিল্লি, ৫ নভেম্বর (পিটিআই): সর্বশেষ FATF (ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স) রিপোর্টে ভারতের আইনি প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা আর্থিক অপরাধের মাধ্যমে প্রতারণার ফলে হারানো জনসম্পদ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেছে। প্রতিবেদনে একটি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) মামলার উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে জব্দকৃত জমি একটি বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সমাজের উপকারে আসবে।
৩৪০ পাতার রিপোর্টটির শিরোনাম ‘অ্যাসেট রিকভারি গাইডেন্স অ্যান্ড বেস্ট প্র্যাকটিসেস’। এতে ভারতের অর্থপাচারবিরোধী কাঠামোর প্রশংসা করা হয়েছে, যা কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে — দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে, দ্রুত প্রয়োজনে, এবং প্রতারক বা পলাতক অপরাধীদের ক্ষেত্রেও।
প্যারিস-ভিত্তিক FATF হল একটি সংস্থা যা বিশ্বব্যাপী অর্থপাচার ও সন্ত্রাসবাদের অর্থায়নের বিরুদ্ধে মানদণ্ড স্থাপন করে।
“এই রিপোর্টে নীতি নির্ধারক ও প্রয়োগকারীদের জন্য অপরাধমূলক সম্পদ চিহ্নিত, ফ্রিজ, পরিচালনা, বাজেয়াপ্ত ও ফেরত দেওয়ার বাস্তবধর্মী উপায়গুলি বর্ণনা করা হয়েছে,” ED জানিয়েছে। “ভারতের আইনি কাঠামো ও অভিজ্ঞতা এই গাইডেন্সের গুরুত্বপূর্ণ অংশে প্রভাব ফেলেছে।”
রিপোর্টে রোজ ভ্যালি পঞ্জি কেলেঙ্কারি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে একটি মাদক পাচার মামলায় ১৩০ কোটি টাকার বিটকয়েন জব্দ, এবং অন্ধ্র প্রদেশ পুলিশের সাথে যৌথভাবে ৬,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রতারণার সম্পদ উদ্ধার — এই ঘটনাগুলির উল্লেখ রয়েছে।
আরেকটি মামলায়, মহারাষ্ট্রের একটি সমবায় ব্যাংকে প্রতারণার অভিযোগে ED বেআইনি সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ২৮০ কোটি টাকার সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। এই জমি পরবর্তীতে বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।
ED জানিয়েছে, FATF রিপোর্টে ভারতের অবদান “গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত”। এটি ভারতের আইনগত কাঠামো ও সংস্থাগুলির মধ্যে সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিপোর্টের লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করা।

