ইস্তানবুলে যুদ্ধবিরতি আলোচনার মাঝে ইউক্রেন ও রাশিয়ার বৈঠক

ইস্তানবুল, ২ জুন (এপি): রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধি দল সোমবার তুরস্কের ইস্তানবুলে দ্বিতীয় দফার সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরু করেছে, যা গত দুই সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার। তবে তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বা সমাধানের আশা কমই রয়েছে, বিশেষ করে সপ্তাহান্তে ইউক্রেনের বিস্ময়কর হামলার পর।

ইউক্রেনের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ, আর রাশিয়ার পক্ষ থেকে ক্রেমলিন উপদেষ্টা ভ্লাদিমির মেদিনস্কি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আলোচনা তুরস্কের চিরাগান প্যালেসে অনুষ্ঠিত হয় এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এর সভাপতিত্ব করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে দূরত্ব বজায় রেখেছেন। ইউক্রেন রবিবার চারটি রাশিয়ান বিমানঘাঁটিতে বিস্ময়কর ড্রোন হামলা চালায়, যা রাশিয়ার আর্কটিক, সাইবেরিয়া ও ফার ইস্ট অঞ্চলে অবস্থিত, যা ইউক্রেন থেকে ৭,০০০ কিলোমিটার দূরে। ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান ভাসিল মালিউক বলেন, এই অভিযান রাশিয়ার সামরিক শক্তির জন্য “এক বড় ধাক্কা”।

রাশিয়া একই দিনে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালায়, ৪৭২টি ড্রোন ছুঁড়ে, যা ইউক্রেনের বেসামরিক এলাকা লক্ষ্য করে। পাশাপাশি দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই অব্যাহত রয়েছে, যেখানে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের খেরসন ও জাপোরিজিয়া অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ নিক্ষেপ করে, কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, “যদি ইস্তানবুলের আলোচনা কোনো ফল না দেয়, তবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে শক্তিশালী নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, সামরিক ক্ষতি রাশিয়াকে কূটনৈতিক পথে নিয়ে আসবে।

দুই দেশের আলোচনার প্রথম দফা গত মাসে ইস্তানবুলে হয়েছিল, যেখানে বড় prisoner swap নিয়ে সম্মতি হয়, কিন্তু কোনো বড় সমাধান হয়নি। বর্তমানে যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ফারাক রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধের অবসান ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চাপ বাড়িয়ে চলেছে, তবে সাম্প্রতিক হামলা ও উত্তেজনার কারণে আলোচনার ফলাফল অনিশ্চিত।