সারসংক্ষেপ
নাইজেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু বুহারি, যিনি আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশটিকে দুইবার শাসন করেছিলেন—একবার সামরিক শাসক এবং একবার গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে—৮২ বছর বয়সে মারা গেছেন। তাঁকে স্মরণ করা হচ্ছে একজন বিতর্কিত নেতা হিসেবে, যিনি দেশের সবচেয়ে সংকটপূর্ণ সময়ে ক্ষমতায় ছিলেন।
বুহারির শাসনামলের প্রধান দিকসমূহ
১. EndSARS আন্দোলন
২০২০ সালের অক্টোবর মাসে, হাজার হাজার যুবক বিশেষ অ্যান্টি-রবারি স্কোয়াড (SARS) এর বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন, যাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, হত্যা, নির্যাতন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল।
- বুহারি প্রথমে ওই ইউনিটটি বিলুপ্ত করেন।
- আন্দোলন আরও জোরদার হলে সরকার নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে।
- ২০ অক্টোবর, লাগোসে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর সেনাবাহিনী গুলি চালায়, যাতে অন্তত ১২ জন নিহত হন।
- জাতির উদ্দেশে ভাষণে বুহারি আন্দোলনকারীদের “দাঙ্গাবাজ” বলেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন।
২. টুইটার নিষেধাজ্ঞা
- আন্দোলনের পর, অনেক নাইজেরিয়ান টুইটারে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন।
- টুইটার বুহারির একটি টুইট মুছে দেয়, যেখানে তিনি একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন।
- নাইজেরিয়ান সরকার সাত মাসের জন্য টুইটারে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয়।
- এতে মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
৩. রাজনৈতিক দমননীতি
- ১৯৮০-এর দশকে সামরিক শাসক হিসেবে বুহারি সমালোচনা সহ্য করতেন না।
- প্রেসিডেন্ট হিসেবেও তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সাংবাদিকদের আটক করেন।
- একবার পুলিশ আদালতে ঢুকে অ্যাক্টিভিস্ট ওমোয়েলে সোওরেকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে, যা বিচারক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
৪. অর্থনৈতিক সংকট
- বুহারির নীতিগুলো অর্থনীতিতে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে ২০১৬ ও ২০২০ সালে মন্দা দেখা দেয়।
- ২০১৯ সালে, তিনি সব ধরনের পণ্যের জন্য সীমান্ত বন্ধ করে দেন, যাতে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ে, কিন্তু এতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়।
- বৈদেশিক মুদ্রার সংকট ও তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় তার সরকার স্থানীয় মুদ্রাকে ডলারের বিপরীতে কৃত্রিমভাবে স্থির রাখে, যার ফলে নাইরার মান আরও কমে যায়।
- বুহারি প্রচুর ঋণ রেখে গেছেন, যা উত্তরসূরিদের জন্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
৫. নিরাপত্তা সংকট
- বুহারির সরকার নিরাপত্তা সংকট নিরসনে ব্যর্থ হয়, যা ছিল তাঁর প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।
- বোকো হারাম ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী উত্তরাঞ্চলে হামলা বাড়ায়, যার মধ্যে রাজধানী আবুজার কাছে ট্রেনে হামলা ও জেল ভেঙে পালানোর ঘটনাও রয়েছে।
- সরকার প্রায়ই বলত, বোকো হারাম “প্রযুক্তিগতভাবে পরাজিত”, যা সমালোচকরা কটাক্ষ করতেন।
- বছরের পর বছর সহিংসতায় অন্তত ৩৫,০০০ মানুষ নিহত ও ২০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
উপসংহার
বুহারির উত্তরাধিকার ব্যাপকভাবে বিতর্কিত। তাঁকে মনে করা হয় এমন একজন নেতা, যিনি দেশের জন্য বহু সুযোগ নষ্ট করেছেন, বৈষম্য বাড়িয়েছেন এবং নাইজেরিয়াকে বহু গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি রেখে গেছেন। তাঁর শাসনকাল দেশের ইতিহাসে একটি জটিল ও বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

