কালিগঞ্জ উপনির্বাচন: পরিচয় রাজনীতি, আইনি লড়াই ও জাতীয়তাবাদী আবেগের কেন্দ্রে

নদিয়ার কালিগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচন ঘিরে তৃণমূল, বিজেপি ও কংগ্রেস-বাম জোটের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই জমে উঠেছে। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ দাঙ্গা, অপারেশন সিন্ধুর পর জাতীয়তাবাদী আবেগ এবং পরিচয় রাজনীতি এই উপনির্বাচনের মূল আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

এই প্রথম, ৭ মে পহেলগাঁও হামলার জবাবে ভারতের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিন্ধুর’ পর রাজ্যে কোনো নির্বাচন হচ্ছে। বিজেপি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নকে প্রচারে জোর দিচ্ছে, বিশেষত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কালিগঞ্জে।

এই উপনির্বাচন তৃণমূল বিধায়ক নাসিরুদ্দিন আহমেদের মৃত্যুর কারণে হচ্ছে। ভোটগ্রহণ ১৯ জুন এবং গণনা ২৩ জুন হবে।

তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছেন নাসিরুদ্দিনের কন্যা, ৩৮ বছর বয়সি কর্পোরেট পেশাজীবী আলিফা আহমেদকে। বিজেপি প্রার্থী স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ও প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি অশিস ঘোষ। কংগ্রেসের কাবিল উদ্দিন শেখকে বামফ্রন্ট সমর্থন দিয়েছে।

কালিগঞ্জে মুসলিম ভোটার প্রায় ৫৪%, তফসিলি জাতি ১৪.৪৩% ও তফসিলি উপজাতি ০.৪২%। এলাকা মূলত গ্রামীণ (৯০.৬৭%)। মুর্শিদাবাদ দাঙ্গা, এসএসসি নিয়োগ কেলেঙ্কারি ও সাম্প্রতিক নির্বাচনী অঙ্ক এই উপনির্বাচনকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করেছে।

তৃণমূল বিজেপিকে ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগ তুলেছে, অন্যদিকে বিজেপি দুর্নীতি ও তোষণ রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলছে। কংগ্রেস-বাম জোট ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী দিয়ে দুই প্রধান দলকে হারানোর চেষ্টা করছে।

নির্বাচনে শান্তি বজায় রাখতে ২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

এই উপনির্বাচনের ফলাফল ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগাম রাজনৈতিক প্রবণতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।