কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব শনিবার কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে ‘উদ্যামী সম্মেলন মেলা ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের রেল খাতে বিনিয়োগে কেন্দ্র সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সংযোগ, মালবাহী পরিবহন ও ক্ষুদ্র ও ছোট উদ্যোগকে সহায়তা করার লক্ষ্যে বাজেট বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, আগের সরকারের সময় যেখানে বাংলার রেল বাজেট ছিল প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪,০০০ কোটি টাকায়।
তিনি জানান, নিউ জলপাইগুড়ি-কলকাতা রেল করিডরকে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন রেললাইন, গতি শক্তি কার্গো টার্মিনাল এবং চিকেন নেক করিডরকে চার লাইনে উন্নীত করার জন্য মাস্টার প্ল্যান তৈরি হয়েছে। সিভোক-শিলিগুড়ি-নিউ মাল জংশন সেকশনকেও মূল করিডরের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
গত ১১ বছরে দেশে প্রায় ৩৫,০০০ কিমি নতুন রেলপথ যুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ৫,৩০০ কিমি, এবং প্রতিবছর ১,৪০০টি লোকোমোটিভ ও ৩৫,০০০টি ওয়াগন সংযোজন হয়েছে বলে বৈষ্ণব জানান।
এদিন তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাঁতরাগাছি থেকে পুরুলিয়া-বাঁকুড়া-হাওড়া মেমু ট্রেনের উদ্বোধন করেন। এই পরিষেবা পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও সংলগ্ন জেলার হাজার হাজার যাত্রীর দৈনন্দিন যাতায়াত আরও সহজ করবে এবং গ্রামীণ, স্থানীয় ও আঞ্চলিক রেল সংযোগের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়াবে বলে তিনি জানান।
বৈষ্ণব বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লক্ষ্য রেলপথের পরিসর বাড়ানো, প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোয় আধুনিকীকরণ এবং যাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করা। কলকাতা মেট্রো ২০১৪-২৫ সময়কালে ৪১ কিমি নতুন পথ যুক্ত করেছে, যেখানে ১৯৭২-২০১৪ পর্যন্ত ছিল মাত্র ২৮ কিমি।
তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গে ১০১টি স্টেশন ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের আওতায় দ্রুতগতিতে আধুনিকীকরণ হচ্ছে। সাঁতরাগাছি স্টেশনকে পরিবেশবান্ধব ও যাত্রীবান্ধব করে গড়ে তোলা হচ্ছে, যা ২০৬৩ সালের মধ্যে প্রতিদিন ৫০,০০০ যাত্রী সামলাতে পারবে।
ভূমি অধিগ্রহণ ও ট্রাফিক অনুমতির চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী এবং রাজ্য সরকারকে মানুষের স্বার্থে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

