‘কেসরি চ্যাপ্টার ২’ ছবিতে বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে তৃণমূলের তীব্র প্রতিবাদ, সাত প্রযোজকের বিরুদ্ধে এফআইআর

কলকাতা, ১৮ জুন (পিটিআই) — পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বুধবার বলিউড ছবি ‘কেসরি চ্যাপ্টার ২’-এর নির্মাতাদের বিরুদ্ধে বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামে রাজ্যের অবদানের ইতিহাস বিকৃত করার এবং বাঙালি বিপ্লবীদের অপমান করার অভিযোগে তীব্র প্রতিবাদ জানাল।

এই ছবির সাতজন প্রযোজকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক ধারায় বিধাননগর দক্ষিণ থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে।

ছবির এক দৃশ্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু হয়েছে, যেখানে অভিযোগ, বাংলার প্রধান স্বাধীনতা সংগ্রামী—বিশেষত ক্ষুদিরাম বসু ও বারীন্দ্রকুমার ঘোষ—এর পরিচয় বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, ছবিতে ক্ষুদিরাম বসুকে “ক্ষুদিরাম সিং” এবং বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে “বীরেন্দ্র কুমার” নামে দেখানো হয়েছে, যিনি আবার আমৃতসর থেকে এসেছেন বলে দেখানো হয়েছে।

একে “ইতিহাসের সুপরিকল্পিত বিকৃতি” ও “বাংলার প্রতি গভীর অপমান” বলে অভিহিত করে তৃণমূলের শীর্ষ নেতা কুণাল ঘোষ ও অরূপ চক্রবর্তী দলীয় সদর দফতরে সাংবাদিক সম্মেলনে ছবির নির্মাতাদের তীব্র নিন্দা করেন।

কুণাল ঘোষ বলেন, “ভারতের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা বাঙালি বিপ্লবীদের নাম বিকৃত করা হয়েছে। এটা শুধু ভুল নয়—এটা বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনের ভূমিকা মুছে ফেলার চক্রান্ত। এই ছবি কীভাবে সেন্সর সার্টিফিকেট পেল?”

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ছবির নাম না করে নির্মাতাদের বিরুদ্ধে বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশে বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অবদান খাটো করার চেষ্টা করার অভিযোগ তোলেন।

তিনি বলেন, “স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালি বিপ্লবীদের ভূমিকা খাটো করার চেষ্টা চলছে। আমরা এর নিন্দা করি। বিজেপি বারবার বাংলা ও আমাদের সংস্কৃতিকে টার্গেট করছে।”

তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার বারবার বাংলার ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে খাটো করার চেষ্টা করেছে।

কুণাল ঘোষ বলেন, “এটা প্রথম নয়। কেন্দ্র সরকার প্রায়ই বাংলার ঐতিহ্য ও মর্যাদার সঙ্গে খেলা করেছে। কিন্তু এবার সীমা ছাড়িয়ে গেছে।”

করণ সিং ত্যাগী পরিচালিত এবং রঘু পালাট ও পুষ্পা পালাটের বই ‘দ্য কেস দ্যাট শুক দ্য এম্পায়ার’-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই ছবিতে একাধিক ঐতিহাসিক চরিত্রের পরিচয় বদলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

ছবিতে অভিনয় করেছেন অক্ষয় কুমার, আর. মাধবন ও অনন্যা পাণ্ডে।

ক্ষুদিরাম বসু ও বারীন্দ্রকুমার ঘোষ ছাড়াও, বিপ্লবীদের বোমা তৈরির প্রশিক্ষক হেমচন্দ্র কানু