
কলকাতা, ৯ জুন (পিটিআই)
পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার ডোমজুড়ে ২৩ বছরের এক তরুণীকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত মা-ছেলে জুটি সম্ভবত বিদেশে পালিয়ে গিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই মনে করছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তাদের ধারণা অনুযায়ী তারা থাইল্যান্ড, বিশেষত ব্যাংককে পালিয়ে থাকতে পারে।
এক সিনিয়র পুলিশ অফিসার জানান, অভিযুক্ত মহিলা বারবার ব্যাংকে গিয়ে নগদ টাকা তুলেছিলেন, যা তাদের পালানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবহৃত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “অভিযুক্ত মহিলা ব্যাংকে গিয়ে একাধিকবার টাকা তুলেছেন। মনে হচ্ছে, সেই অর্থই পালানোর কাজে লাগানো হয়েছে। আমাদের সন্দেহ, ওই মহিলা ও তাঁর ছেলে ব্যাংককে পালিয়ে গেছেন।”
এই মা-ছেলে ডোমজুড়ের বাড়িতে ২৩ বছরের এক তরুণীকে পর্ন ছবিতে অভিনয় করতে অস্বীকার করায় তাঁকে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগে এফআইআরে নাম রয়েছে।
ভুক্তভোগী, উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরের বাসিন্দা, বর্তমানে কলেজ অফ মেডিসিন অ্যান্ড সাগর দত্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত মহিলা ও তাঁর ছেলে একটি ফিল্ম প্রোডাকশন হাউস চালাতেন, যেখানে “সফট পর্নোগ্রাফিক রিল” শ্যুট হত। তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, ওই বাড়ি থেকেই তাঁরা যৌন ব্যবসার র্যাকেট চালাতেন কিনা।
ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, ডোমজুড়ের বাড়িতে আটকে রাখার সময় ওই মহিলা তাঁকে আরও বেশি নির্যাতন করতেন।
গত বছর ফেসবুকের মাধ্যমে ডোমজুড়ের ওই যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁকে বাড়িতে ডেকেছিলেন।
তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, ডোমজুড়ের বাড়িতে গেলে তাঁকে বার ডান্সার হতে বলা হয়, রাজি না হলে মারধর করে গৃহস্থালির কাজে বাধ্য করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, তাঁর মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
তদন্ত চলছে।
