
ওয়াশিংটন, ৮ জানুয়ারি (এপি): মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছা আরও জোরালোভাবে প্রকাশ করার পর তিনি আগামী সপ্তাহে ডেনমার্কের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আর্কটিক দ্বীপটি ডেনমার্কের একটি স্বশাসিত অঞ্চল।
চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন—এই যুক্তিতে সাবেক ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তারের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রসঙ্গ তুলেছেন।
গ্রিনল্যান্ড সরকারের ওয়েবসাইটে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোটজফেল্ট রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ করেছিলেন। আগের অনুরোধগুলো সফল হয়নি।
রুবিও মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একটি নির্বাচিত গোষ্ঠীকে জানান, সামরিক শক্তি ব্যবহার না করে গ্রিনল্যান্ড কেনার পরিকল্পনা রয়েছে রিপাবলিকান প্রশাসনের। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এই মন্তব্যের কথা জানায়। সোমবার ক্যাপিটল হিলে একটি গোপন ব্রিফিংয়ে এই মন্তব্য করা হয় বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানান।
বুধবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদ থেকেই গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের কথা বলে আসছেন। “এটাই শুরু থেকেই প্রেসিডেন্টের অভিপ্রায়,” তিনি বলেন।
ইউরোপীয় নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন ও যুক্তরাজ্যের নেতারা ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, খনিজসমৃদ্ধ দ্বীপটি “তার জনগণেরই অন্তর্ভুক্ত”। ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করেন, মার্কিন দখল ন্যাটোর অবসান ডেকে আনতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মারিয়া মার্টিসিউটে বলেন, ট্রাম্পের হুমকিমূলক বক্তব্যই মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
রুবিও বলেন, ডেনমার্কের সঙ্গে আগামী সপ্তাহে আলোচনা হবে এবং আপাতত তিনি আর কিছু যোগ করতে চান না। তিনি আরও বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সামরিক বিকল্প সব সময়ই থাকে।
হোয়াইট হাউস জানায়, সামরিক পথ একটি বিকল্প হলেও কূটনীতিই প্রথম পছন্দ।
ডেনমার্কের পার্লামেন্ট জুন মাসে একটি বিল অনুমোদন করেছে, যাতে মার্কিন সেনাদের ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে ডেনমার্ক জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা হলে তারা চুক্তি বাতিল করতে পারবে।
(AP)
