চেন্নাই, ২০ নভেম্বর (পিটিআই) — সামুদ্রযান: ভারত সমুদ্রগর্ভ অনুসন্ধানে প্রস্তুত

**EDS: TO GO WITH STORY** Chennai: Matsya-6000, India's manned deep sea submersible during harbour trials, in Chennai. (PTI Photo)(PTI11_20_2025_000097B) *** Local Caption *** Matsya-6000, India's manned deep sea submersible undergoing harbour trials in January near Chennai. The Matsya-6000 will dive to a depth of 500 meters in the sea early 2026, marking India's entry into the niche area of deep sea exploration.

চেন্নাই উপকূলে আগামী বছরের শুরুতে ৫০০ মিটার গভীর পর্যন্ত ২৮ টন ওজনের দেশীয় মানববাহী সাবমার্সিবল পরিচালনা করবেন দেশের শীর্ষ সমুদ্র-বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের দুই বিজ্ঞানী। এর মাধ্যমে গভীর সমুদ্র অভিযানে সক্ষম দেশগুলোর অভিজাত তালিকায় প্রবেশ করবে ভারত।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওশান টেকনোলজির (NIOT) রমেশ রাজু ও যতিন্দর পাল সিং ‘মৎস্য-৬০০০’ চালিয়ে সমুদ্র-গহ্বরের রহস্য উদঘাটনে নামবেন ‘ডিপ ওশান মিশন’-এর অংশ হিসেবে।

NIOT–এর পরিচালক বলাজি রামাকৃষ্ণন বলেন, “আমরা আগে রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকল দিয়ে গভীর সমুদ্র অনুসন্ধান করেছি। এবারই প্রথম মানুষকে ৬,০০০ মিটার গভীরে পাঠানো হবে, তাই নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব।”

সামুদ্রযান প্রকল্পকে আত্মনির্ভর ভারতের প্রতীক বলা হচ্ছে। দু’বার আন্তর্জাতিক টেন্ডার দেওয়া হলেও প্রযুক্তিগত বাধার কারণে সাবমার্সিবল কেনা সম্ভব হয়নি, তাই সরকার নিজস্বভাবে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেয়।

রামাকৃষ্ণন বলেন, “আমাদের ১,০০০ মিটার পর্যন্ত ডাইভিংয়ের অভিজ্ঞতা ছিল। পরে দেখা যায় DRDO, CSIR ও ISRO–র ল্যাবগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি রয়েছে।”

প্রকল্প পরিচালক সাথিয়া নারায়ণন বলেন, “মানুষের চোখের দৃষ্টিশক্তি ও现场 সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যন্ত্রের থেকে অনেক বেশি।”

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, জাপান ও ফ্রান্স এই প্রযুক্তিতে দক্ষ। সামুদ্রযান সফল হলে ভারতও এই দলের সদস্য হবে।

ভারতের ১১,০৯৮ কিমি দীর্ঘ উপকূলরেখা রয়েছে এবং ‘ব্লু ইকোনমি’–কে কেন্দ্র করে সমুদ্রসম্পদ ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে।

NIOT ক্যাম্পাসে তৈরি হচ্ছে মৎস্য–৬০০০। ২.২৫ মিটার ব্যাসের বয়লার স্টিলের গোলক কাঠামোর ভেতর থাকবে ব্যাটারি, জরুরি পালানোর ব্যবস্থা, ব্যালাস্ট ট্যাঙ্ক, প্রপেলার ও উদ্ধার বয়া।

প্রথম পর্যায়ে মৎস্য–৬০০০ আগামী বছরে ৫০০ মিটার গভীরে যাবে। ২০২৭ সালে ISRO–র গগনযান মিশনের সময় ৬০০০ মিটার গভীরেও ডাইভ দেওয়ার পরিকল্পনা।

৬০০০ মিটার গভীর ডাইভের জন্য বয়লার স্টিলের বদলে ৮০ মিমি পুরু টাইটেনিয়ামের গোলক তৈরি করছে ISRO–র বেঙ্গালুরুর ল্যাব।

মৎস্য–৬০০০ মিনিটে ৩০ মিটার নেমে যেতে পারে এবং এতে থাকবে জানালা, আলো, রোবোটিক বাহু এবং ক্যামেরা।

ডিএনভি থেকে সার্টিফিকেশন পাওয়ার ফলে এটি হবে অত্যন্ত নিরাপদ সাবমার্সিবল।

আগস্টে দুই ভারতীয় বিজ্ঞানী ফরাসি ‘নটাইল’ সাবমার্সিবলে ৫০০০ মিটার গভীরে গিয়েছিলেন, যার অভিজ্ঞতা এখন কাজে লাগছে।