
দুবাই, ৫ ফেব্রুয়ারি (এপি) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক বিষয়ক আলোচনা শুক্রবার ওমানে অনুষ্ঠিত হবে। গত মাসে দেশজুড়ে বিক্ষোভ দমনে তেহরানের রক্তক্ষয়ী অভিযানের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনো চরমে রয়েছে।
বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির এই ঘোষণা আসে। আলোচনার কাঠামো ও বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে ইঙ্গিত মিলছিল যে প্রস্তাবিত আলোচনা ভেস্তে যেতে পারে। এদিকে, আলোচনার আগেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইকে কড়া সতর্কবার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
“আমি বলব, তার খুব চিন্তিত হওয়া উচিত,” এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খামেনেই সম্পর্কে বলেন ট্রাম্প।
এর আগে বুধবার এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা বলেন, তুরস্ক যে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিল তার চেয়ে “ভিন্ন ধরনের” একটি বৈঠক চাচ্ছে ইরান। সেই বৈঠক কেবল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং তাতে শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে। গণমাধ্যমকে ব্রিফ করার অনুমতি না থাকায় তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়েছে, মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী তুরস্কে নয়, ওমানে ইরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেবে যুক্তরাষ্ট্র। প্রকাশ্যে মন্তব্য করার অনুমতি না থাকায় তিনিও নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বুধবার বেশ কয়েকজন আরব ও মুসলিম নেতা ট্রাম্প প্রশাসনকে আলোচনা থেকে সরে না যেতে অনুরোধ করেছেন, এমন সময়ে যখন ইরানি কর্মকর্তারা আলোচনার পরিসর সংকুচিত করা এবং আলোচনার স্থান পরিবর্তনের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন।
তিনি বলেন, আলোচনাটি সফল হবে কি না সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস “খুবই সন্দিহান”, তবে অঞ্চলটির মিত্রদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে পরিকল্পনার পরিবর্তনে সম্মতি দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবাদকারীদের দমনের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র শক্তি প্রয়োগ করতে পারে বলে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে একটি চুক্তির জন্য তেহরানের ওপর চাপ দিচ্ছেন।
রুবিওর আশা, আলোচনা শুধু পারমাণবিক বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না
ইরানের সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মঙ্গলবার বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে “ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক আলোচনা” চালিয়ে যেতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন। এটি তেহরানের পক্ষ থেকে আলোচনায় বসার আগ্রহের প্রথম স্পষ্ট ইঙ্গিত। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, রাষ্ট্রের সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইও এই উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন, যিনি আগে যেকোনো আলোচনাই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বিষয়ের বাইরে আরও কিছু উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করতে চায়। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, অঞ্চলজুড়ে প্রক্সি নেটওয়ার্ককে সমর্থন এবং “নিজেদের জনগণের সঙ্গে আচরণ”।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ধর্মীয় নেতৃত্বের স্তরে ইরানের নেতৃত্ব দেশটির জনগণের প্রতিফলন নয়। দেশ চালানো মানুষ আর সেখানে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে এত বড় পার্থক্য আছে—এমন আর কোনো দেশের কথা আমি জানি না।”
উপ-রাষ্ট্রপতি জে ডি ভ্যান্স ‘দ্য মেগিন কেলি শো’-তে বলেন, খামেনেইয়ের তত্ত্বাবধানে থাকা তেহরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার কারণে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা কঠিন।
তিনি বলেন, “যখন আপনি দেশের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির সঙ্গেই কথা বলতে পারেন না, তখন সে দেশের সঙ্গে কূটনীতি করা খুবই অদ্ভুত। এতে সবকিছু আরও জটিল ও হাস্যকর হয়ে যায়।” তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প রাশিয়া, চীন বা উত্তর কোরিয়ার নেতাদের সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলতে পারেন।
ভ্যান্স বলেন, ট্রাম্পের মূল অবস্থান হলো—ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, এমন হলে অঞ্চলটির অন্য দেশগুলোও দ্রুত একই পথে হাঁটবে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানি কর্মকর্তারা ক্রমশ পারমাণবিক বোমার দিকে এগোনোর হুমকি দিয়ে আসছেন।
ভ্যান্স আরও বলেন, ট্রাম্প “অসামরিক উপায়ে যতটা সম্ভব অর্জন করার চেষ্টা করবেন। আর যদি তিনি মনে করেন সামরিক বিকল্পই একমাত্র পথ, তাহলে শেষ পর্যন্ত তিনি সেই পথই বেছে নেবেন।”
মার্কিন বাহিনী ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার পরও আলোচনার আশা
মঙ্গলবার মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ফাইটার জেট একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করে, যা একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরির কাছে চলে এসেছিল। একই সময়ে, ইরানের আধাসামরিক রেভল্যুশনারি গার্ডের দ্রুতগামী নৌযানগুলো পারস্য উপসাগরের সংকীর্ণ মুখ হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ থামানোর চেষ্টা করে বলে নৌবাহিনী জানায়।
ইরান তাৎক্ষণিকভাবে এই দুই ঘটনার কোনো স্বীকৃতি দেয়নি। এতে উত্তেজনা বেড়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নষ্ট হয়নি।
বুধবার ইরানের সামরিক শীর্ষ কর্মকর্তারা একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি পরিদর্শন করেন, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি তুলে ধরার চেষ্টা হিসেবে। ওই ঘাঁটিতে খোররামশাহর ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যার পাল্লা ২,০০০ কিলোমিটারের বেশি। গত বছরের যুদ্ধে এই ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের দিকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
তুরস্কের কূটনীতির আহ্বান
বুধবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান প্রতিবেশী ইরানে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান।
গত এক সপ্তাহ ধরে তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং আগে এই আলোচনার আয়োজক হিসেবে তুরস্ককেই ধরা হচ্ছিল।
কায়রো সফরের সময় এরদোয়ান বলেন, “আমাদের প্রতিবেশী ইরানকে ঘিরে যেকোনো বহিরাগত হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে। পারমাণবিক ইস্যুসহ ইরানসংক্রান্ত সব বিষয় কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান করাই সবচেয়ে উপযুক্ত পথ।” (এপি) RUK RUK
বিভাগ: ব্রেকিং নিউজ
SEO ট্যাগ: #swadesi, #News, Iran, US agree to hold nuclear talks Friday in Oman as Trump delivers blunt warning to Khamenei
