কলকাতা, ২৯ অক্টোবর (পিটিআই): পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার ছয়জন বাসিন্দাকে গত জুন মাসে বাংলাদেশে নির্বাসিত (deported) করার পর তাঁদের ফিরিয়ে আনার আদালতের পূর্বের নির্দেশ মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে আদালতের অবমাননার (Contempt Petition) মামলা দায়ের করেছেন তাঁদের আত্মীয়-স্বজনরা।
মামলার প্রেক্ষাপট ও আদালতের নির্দেশ
- শুনানির তারিখ: আদালতের নথি অনুযায়ী, মামলাটি ৬ নভেম্বর বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং রীতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির জন্য আসার কথা রয়েছে।
- হাইকোর্টের পূর্বের নির্দেশ: ২৬ সেপ্টেম্বর, হাইকোর্টের এই একই বেঞ্চ আবেদনকারীদের দায়ের করা একটি হেবিয়াস কর্পাস (Habeas Corpus) আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রের নির্বাসনের সিদ্ধান্তকে খারিজ করে দিয়েছিল। আদালত দুই পরিবারের ছয় সদস্যকে, যাদের মধ্যে তিনজন শিশুও ছিল, “অবৈধ অনুপ্রবেশকারী” হিসেবে চিহ্নিত করে নির্বাসিত করার সিদ্ধান্তকে বাতিল করে এবং এক মাসের মধ্যে তাঁদের ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়।
- নির্বাসিতদের অবস্থা: নির্বাসিতদের মধ্যে সোনালী নয় মাসের বেশি গর্ভবতী এবং বর্তমানে অন্য সকলের সাথে বাংলাদেশের জেলে বন্দি আছেন। ভারত থেকে পুশ ব্যাক করার পর সে দেশের কর্তৃপক্ষ তাঁদের অবৈধ বাসিন্দা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
- বাংলাদেশ আদালতের রায়: এর মধ্যে, ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের একটি আদালতও এই ব্যক্তিদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে এবং ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশনকে তাঁদের প্রত্যাবাসনের (repatriation) ব্যবস্থা করার জন্য বলে।
কেন্দ্রের চ্যালেঞ্জ এবং আইনি জটিলতা
- সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র: এদিকে, ২২ অক্টোবর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA) কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে।
- কেন্দ্রের যুক্তি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক যুক্তি দিয়েছে যে কলকাতা হাইকোর্টের এই মামলার এখতিয়ার নেই, কারণ মূল আটক এবং নির্বাসন প্রক্রিয়া দিল্লিতে সংঘটিত হয়েছিল।
- বর্তমানে মামলা: এই বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এমএইচএ-এর আপিল এবং মন্ত্রকের নির্বাসন প্রক্রিয়ার ব্যাপক আইনি বৈধতা পরীক্ষা করছে।
- হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ: হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ তাদের নির্দেশে পর্যবেক্ষণ করেছিল যে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক “দ্রুততার সাথে (in hot haste)” নির্বাসনের প্রক্রিয়া চালানো হয়েছিল। এটি এমএইচএ কর্তৃক জারি করা স্মারকলিপির বিধানগুলির লঙ্ঘন, যার ভিত্তিতে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (FRRO), দিল্লি, বাংলাদেশের অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠায়।
সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার আপিল এবং নির্বাসন প্রক্রিয়ার আইনি বৈধতার বিষয়ে পরবর্তী আপডেট আপনি জানতে চান কি?
SEO Tags (এসইও ট্যাগস): #কলকাতাহাইকোর্ট #আদালতেরঅবমাননা #নির্বাসন #বাংলাদেশ #কেন্দ্রসরকার #হেবিয়াসকর্পাস #সুপ্রিমকোর্ট #আইনিজটিলতা

