পারেশ রাওয়ালের খোলামেলা স্বীকারোক্তি: বাবুরাওয়ের জনপ্রিয়তা তাঁকে বোর করে তুলেছে, সৃজনশীলভাবে আটকে দিয়েছে

Paresh Rawal

অভিনেতা পারেশ রাওয়াল খোলাখুলি স্বীকার করেছেন যে জনপ্রিয় ‘হেরা ফেরি’ চলচ্চিত্র সিরিজে তাঁর বাবুরাও চরিত্রটি তাঁর জন্য যেমন আশীর্বাদ, তেমনি অভিশাপও। রাজ শামনির একটি সাম্প্রতিক পডকাস্টে উপস্থিত হয়ে এই অভিজ্ঞ অভিনেতা জানান, চরিত্রটির বিপুল জনপ্রিয়তা ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও একই ধরনের চরিত্রে বারবার বাঁধা পড়া তাঁর ওপর মানসিক চাপ তৈরি করেছে। দর্শকদের বাবুরাওয়ের প্রতি ভালোবাসা তিনি সম্মান করেন, তবে একই চরিত্র ও একই ধাঁচের অভিনয় বারবার করতে করতে তিনি বিরক্ত ও হতাশ হয়ে পড়েছেন। এতে তাঁর অন্য প্রশংসনীয় অভিনয়গুলোও আড়াল হয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

সৃজনশীল শৃঙ্খলে বন্দি

রাওয়াল জানান, বাবুরাওয়ের অপ্রতিরোধ্য সাফল্য তাঁকে সৃজনশীলভাবে অত্যন্ত সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে। অভিনেতার ভাষায়, দর্শকদের সন্তুষ্ট করতে একই চরিত্রের একই রকম পুনরাবৃত্তি তাঁকে যেন এক কোণায় আটকে ফেলেছে। তিনি বলেন, “কি হয় জানেন? মানুষকে খুশি করতে করতে আপনাকে একই জিনিস বারবার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে করতে হয়।” এভাবেই চরিত্রটির বিপুল সাফল্য থাকা সত্ত্বেও তিনি একঘেয়েমি অনুভব করছেন।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন — নির্মাতারা কেন এমন জনপ্রিয় চরিত্র নিয়ে ঝুঁকি নিতে চান না। তাঁর কথায়, “যখন আপনার কাছে ৫০০ কোটির সদিচ্ছা নিয়ে দাঁড়ানো একটি বিশাল চরিত্র আছে, তখন কেন ঝুঁকি নিয়ে উড়ে যান না? কেন স্থবির হয়ে থাকেন?” তাঁর মতে, একই রকম গল্পে আটকে না থেকে ভিন্ন প্রেক্ষাপট ও নতুন কাহিনি নিয়ে বাবুরাওকে আরও বিস্তৃতভাবে দর্শকের সামনে আনা যেত।

অন্য চরিত্রের ওপর বাবুরাওয়ের ছায়া

রাওয়ালের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হল, বাবুরাওয়ের জনপ্রিয়তা তাঁর অন্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলোকেও পুরোপুরি ঢেকে দিয়েছে। তিনি জানান, তাঁর অন্যান্য অসাধারণ চরিত্রগুলোও এখন এই আইকনিক কমিক ফিগারের আড়ালে পড়ে গেছে। আশ্চর্যের বিষয়, রাওয়ালের কাছে বলা হয়েছে — “বাবুরাও নাকি আর. কে. লক্ষ্মণের থেকেও বেশি জনপ্রিয়!” — যা তাঁর কাছে স্বস্তির থেকে বেশি অস্বস্তিকর।

তবুও তিনি স্বীকার করেন, এই চরিত্রটির রয়েছে এক অনন্য আকর্ষণ ও গ্রহণযোগ্যতা। তিনি বলেন, “চরিত্রটির দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে; বাবুরাও যা বলবে, দর্শক তা বিশ্বাস করে।” এই ভালবাসা ও বদ্ধতার দ্বন্দ্বই তাঁর সমস্যার মূল।

দুর্বলতার মধ্যেই সুরক্ষা

অনেক প্রস্তাব পাওয়া সত্ত্বেও তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে বাবুরাওয়ের অনুকরণ বা এর পরিবর্তিত রূপের মতো চরিত্রে অভিনয় করা এড়িয়ে চলেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “আমি কখনোই বাবুরাওয়ের কার্টুনিস্টিক সংস্করণে অভিনয় করতে রাজি হই না।”

এছাড়া আইনি কারণে তিনি এই চরিত্রটি অন্য কোথাও ব্যবহার করতেও পারেন না, কারণ বাবুরাও চরিত্রটির অধিকার রয়েছে প্রযোজক ফিরোজ নাড়িয়াদওয়ালার কাছে। এটি তাঁর কাছে হতাশার হলেও তিনি বলেন, এই অসহায়তার মধ্যেই চরিত্রটির পবিত্রতা রক্ষা পেয়েছে।

সামনে কী: ‘হেরা ফেরি ৩’ এবং আরও এগিয়ে

টাইপকাস্টিং নিয়ে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও পারেশ রাওয়াল আসন্ন ‘হেরা ফেরি ৩’-এ আবারও বাবুরাওয়ের ভূমিকায় অভিনয় করতে সম্মত হয়েছেন। সৃজনশীল মতবিরোধের কারণে তিনি আগে প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ালেও এখন ফের ফিরেছেন। ছবির শুটিং শুরু হবে ২০২৬ সালের গোড়ার দিকে। আকshay কুমার ও সুনীল শেট্টিও ফিরবেন রাজু ও শ্যামের ভূমিকায় — অর্থাৎ আবারও একজোট হবে দর্শকের প্রিয় ত্রয়ী।

রাওয়ালের এই অভিজ্ঞতা সেই বৃহত্তর চ্যালেঞ্জের কথা মনে করিয়ে দেয়, যা অনেক অভিনেতাই আইকনিক চরিত্রের সাফল্যের পর মোকাবিলা করেন — সাফল্যের বাইরে নিজেকে প্রমাণের লড়াই, সেই দর্শকের ভালবাসা না হারিয়েই।

তাঁর এই খোলামেলা আত্মসমালোচনা ভারতীয় সিনেমায় দীর্ঘমেয়াদি খ্যাতির জটিল বাস্তবতাকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরে।

By – Sonali