জয়পুর, ২৬ মে (পিটিআই): জয়পুর সেন্ট্রাল জেলের পাঁচ বন্দির জন্য নির্ধারিত হাসপাতাল ভিজিট আচমকাই রূপ নেয় শহরভ্রমণে—পোহা দিয়ে ব্রেকফাস্ট, হোটেলে থাকা এবং স্ত্রী-প্রেমিকাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগে।
রবিবার পুলিশ ১৩ জনকে—পাঁচ কনস্টেবল, চার বন্দি ও চার আত্মীয়কে—গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, বন্দিরা ঘুষ দিয়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য জেলের বাইরে অবাধে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ নিয়েছিল। অভিযুক্ত চার বন্দি—রফিক বকরি, ভंওরলাল, অঙ্কিত বংশল ও করণ গুপ্তা—এসএমএস হাসপাতালে চিকিৎসার অনুমতি পেয়েছিল। কিন্তু তারা হাসপাতালে না গিয়ে শহরের বিভিন্ন হোটেলে ঘুরে বেড়ায় এবং শুধু একজন বন্দি হাসপাতালে পৌঁছয়। নির্ধারিত সময় ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কেউই জেলে ফেরেনি।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই বেড়ানোর জন্য প্রায় ২৫,০০০ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়, মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে। প্রত্যেক এসকর্ট কনস্টেবলকে ৫,০০০ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। রফিক ও ভঁওর জালুপুরার এক হোটেলে স্ত্রী ও প্রাক্তন প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করে। সেখানে রফিকের স্ত্রীর কাছ থেকে মাদক উদ্ধার হয়, তাঁর বিরুদ্ধে NDPS আইনে মামলা হয়েছে। অঙ্কিত ও করণ এয়ারপোর্টের কাছে এক হোটেলে পোহা দিয়ে ব্রেকফাস্ট করে, সেই রুম বুক করেছিলেন অঙ্কিতের প্রেমিকা। পরে করণের এক আত্মীয়কে ৪৫,০০০ টাকা নগদ ও একাধিক বন্দির পরিচয়পত্রসহ আটক করা হয়।
জেল সূত্রে জানা গেছে, এই পুরো পরিকল্পনার নেপথ্যে রয়েছেন এক দণ্ডিত চাঁদাবাজ, যিনি এখনও জেলের ভেতর থেকেই এমন অপারেশন চালাচ্ছেন। এপ্রিল থেকে ২০০-র বেশি ফোনকল ট্যাপ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, জেলের ভেতরে ঘুষ, অবৈধ মোবাইল ব্যবহার ও ভিআইপি-সহ মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মাকে হুমকির মতো ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনার পর সওয়াই মান সিং থানায় মামলা হয়েছে এবং জয়পুর সেন্ট্রাল জেলে বড়সড় তদন্ত ও তল্লাশি শুরু হয়েছে। এই কেলেঙ্কারিতে রাজ্যের জেল প্রশাসন চরম অস্বস্তিতে পড়েছে।

