নয়াদিল্লি, ২৭ মে (পিটিআই): প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের গভীর অনুপ্রবেশ ক্ষমতাসম্পন্ন উন্নত মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (এএমসিএ) প্রকল্পের “বাস্তবায়ন মডেল” অনুমোদন করেছেন।
এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের আওতায় এএমসিএ হবে একটি মাঝারি ওজনের, স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন, মাল্টিরোল ফাইটার জেট, যা ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। এএমসিএ প্রকল্পের নেতৃত্ব দেবে অ্যারোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (এডিএ), যারা সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতই প্রতিযোগিতামূলক ভিত্তিতে স্বতন্ত্রভাবে, যৌথ উদ্যোগে বা কনসর্টিয়াম হিসেবে বিড করতে পারবে। অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলোকে অবশ্যই ভারতীয় আইন ও বিধি অনুযায়ী ভারতীয় কোম্পানি হতে হবে।
এই সিদ্ধান্ত দেশীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা (আত্মনির্ভর ভারত) অর্জনের পথে বড় অগ্রগতি। প্রকল্পের প্রাথমিক উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকা।
এএমসিএ-তে থাকবে উন্নত স্টেলথ ডিজাইন, সুপারক্রুজ ক্ষমতা, সেন্সর ফিউশন, অভ্যন্তরীণ অস্ত্র বহন, এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক ইলেকট্রনিক পাইলটসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। এই জেট তৈরি হলে তা বর্তমানের ফ্রন্টলাইন সুখোই সু-৩০এমকেআই-র উত্তরসূরি হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে ষষ্ঠ প্রজন্মের প্রযুক্তিও যুক্ত হবে।
প্রকল্পের নকশা ও প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৪ সালে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটি প্রকল্পে নীতিগত অনুমোদন দেয়। প্রথম প্রোটোটাইপ ২০২৮ সালের মধ্যে উড়বে বলে আশা করা হচ্ছে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে ভারতীয় বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এএমসিএ প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত নিজস্ব প্রযুক্তিতে পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার জেট তৈরির ক্ষেত্রে বৈশ্বিক মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিতে চলেছে।

