বারামতীতে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অজিত পাওয়ারের শেষকৃত্য, শোকস্তব্ধ মহারাষ্ট্র; অন্ত্যেষ্টিতে উপস্থিত অমিত শাহ, নীতিন নাবিন

Pune: Mortal remains of Maharashtra Deputy Chief Minister Ajit Pawar being brought to Vidya Pratishthan college ground for his funeral, at Baramati in Pune district, Thursday, Jan. 29, 2026. (PTI Photo/Kunal Patil)(PTI01_29_2026_000103B)

বারামতী, ২৯ জানুয়ারি (পিটিআই) — বিমান দুর্ঘটনায় মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারানো মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারকে বৃহস্পতিবার বারামতীতে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয়। শেষকৃত্যে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যা প্রতিষ্ঠানের ভিড়ঠাসা মাঠে পাওয়ারের পুত্র পার্থ ও জয় চিতায় আগুন দেন। স্ত্রী, রাজ্যসভা সাংসদ সুনেত্রা পাওয়ার চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। চারপাশে ‘অজিত দাদা অমর রহে’ স্লোগান উঠতে থাকে। ৬৬ বছর বয়সি এনসিপি নেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ, নীতিন গডকরি, মুরলীধর মোহোল, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শরদ পাওয়ার এবং বিজেপি সভাপতি নীতিন নাবিন। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস ও উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেও উপস্থিত ছিলেন। বারামতীর এনসিপি সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে সুনেত্রা পাওয়ারকে সান্ত্বনা দেন।

জাতীয় পতাকায় মোড়া পাওয়ারের মরদেহ কাতেওয়াড়ি গ্রাম থেকে বিদ্যা প্রতিষ্ঠানে আনা হলে হাজার হাজার স্থানীয় মানুষ ও এনসিপি কর্মী শ্রদ্ধা জানান। এনসিপি কার্যনির্বাহী সভাপতি প্রফুল্ল প্যাটেল, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সুশীলকুমার শিন্ডে ও অশোক চবন, কংগ্রেস রাজ্য সভাপতি হর্ষবর্ধন সাপকালে এবং অভিনেতা রিতেশ দেশমুখও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে ও এমএনএস নেতা রাজ ঠাকরে কাতেওয়াড়ির বাড়িতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। শেষকৃত্যে ঘোষণার মাধ্যমে শৃঙ্খলা ও নীরবতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়, যা পাওয়ারের কঠোর শৃঙ্খলাবোধের প্রতিফলন।

বারামতীর টেবিলটপ এয়ারস্ট্রিপ থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে লিয়ারজেট বিমানটি ভেঙে পড়ে অজিত পাওয়ারসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ক্যাপ্টেন সুমিত কাপুর, কো-পাইলট ক্যাপ্টেন শম্ভাবী পাঠক, ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী বিদিপ যাদব ও বিমানসেবিকা পিঙ্কি মালি। তাঁদের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, দুর্বল দৃশ্যমানতার কারণে গো-অ্যারাউন্ডের পর অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এটিসিকে কোনও রিড-ব্যাক দেওয়া হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি আগুনে পুড়ে যায়। পুলিশ দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা হয়েছে।