
নয়াদিল্লি, ৭ আগস্ট (পিটিআই) রাজ্যসভা সাংসদ কপিল সিব্বল বৃহস্পতিবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ‘‘চমকপ্রদ তথ্য’’ প্রকাশ করে ‘‘বিরাট নির্বাচনী জালিয়াতি’’ সামনে আনার জন্য প্রশংসা করেন এবং নির্বাচন কমিশনকে সরকারের ‘‘এজেন্ট’’ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন।
সিব্বল গান্ধীর দাবির যথাযথ তদন্তের আহ্বান জানান এবং বলেন, এই ‘‘নির্বাচনী জালিয়াতি’’তে জড়িতদের নাগরিকত্ব বাতিল করা উচিত।
তিনি বলেন, ‘‘আজ রাহুল গান্ধী এক সংবাদ সম্মেলনে কর্ণাটকে, বিশেষ করে একটি নির্দিষ্ট আসনে, যে কারচুপি হয়েছে তা নিয়ে চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেছেন। এটি কী নির্দেশ করে? এটি স্পষ্ট করে যে সারা দেশে ব্যাপক নির্বাচনী জালিয়াতি হচ্ছে।’’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘মহারাষ্ট্রে ভোট যোগ করা হয়েছে; কর্ণাটক ও দিল্লিতে ভোটে কারচুপি হয়েছে; বিহারে ভোট বাদ দেওয়া হয়েছে। এই হল এই জালিয়াতির ব্যাপ্তি ও প্রকৃতি।’’
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি রাহুল গান্ধী এই তথ্য সামনে এনে এবং জনগণের সামনে রাখার সাহস দেখিয়ে দেশের জন্য বিশাল কাজ করেছেন। কেবল একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিকই তা করতে পারে।’’
তিনি বলেন, দেশের মানুষকে সামনে আনতে হবে যে আমাদের গণতন্ত্রের কী অবস্থা এবং ‘‘কীভাবে নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীন দলের এজেন্টে পরিণত হয়েছে।’’
স্বাধীন রাজ্যসভা সাংসদ বলেন, বিষয়টির তদন্তের পরিবর্তে নির্বাচন কমিশন গান্ধীর কাছে হলফনামা চেয়েছে, যদিও তারা জানে এটি নির্ধারিত ৩০ দিনের সময়সীমার বাইরে।
সিব্বল বলেন, ‘‘যখন এই তথ্য প্রকাশ পেল, নির্বাচন কমিশন বলা উচিত ছিল যে তারা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে এবং তথ্য জনগণের সামনে রাখবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন হলফনামা চাইছে, অথচ আইন অনুযায়ী এটি কেবল ৩০ দিনের মধ্যে জমা দেওয়া যায়।’’
তিনি জানান, আইন অনুসারে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির দাবি বা কোনো এন্ট্রির আপত্তি ৩০ দিনের মধ্যে জানাতে হয়।
তিনি বলেন, ‘‘ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬-এ এবং নাম মুছে দেওয়া বা অন্তর্ভুক্তির আপত্তি ফর্ম ৭-এ করতে হয়। না ফর্ম ৬ জমা হয়েছে, না ফর্ম ৭। এখন তারা হলফনামা চাইছে। এর ভিত্তি কী? এটা কি মজা? আগে কমিশন বিষয়টি উপেক্ষা করে, পরে রাহুল গান্ধীর কাছে হলফনামা চায়। এটি এত বড় জালিয়াতি এবং কয়েকজন মানুষ এতে জড়িত। স্পষ্ট যে ক্ষমতাসীন দল এতে জড়িত।’’
গান্ধী বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেন যে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের যোগসাজশে নির্বাচনে ‘‘বিরাট অপরাধমূলক জালিয়াতি’’ হয়েছে। তিনি কর্ণাটকের একটি আসনের বিশ্লেষণ উল্লেখ করে বলেন, এটি ‘‘সংবিধানের বিরুদ্ধে অপরাধ’’।
লোকসভায় বিরোধী দলনেতা গান্ধী আরও বলেন, বিচারবিভাগকে এতে জড়িত হওয়া উচিত, কারণ ‘‘যে গণতন্ত্রকে আমরা এত ভালোবাসি, তা আর বিদ্যমান নেই।’’
গান্ধী বলেন, তাঁর দল গবেষণার মাধ্যমে যে তথ্য সংগ্রহ করেছে তা ‘‘অপরাধমূলক প্রমাণ’’ এবং অভিযোগ করেন যে নির্বাচন কমিশন সারা দেশে এমন প্রমাণ নষ্ট করতে ব্যস্ত।
তিনি বলেন, কর্ণাটকের মহাদেবপুরা বিধানসভা কেন্দ্রে এক লক্ষের বেশি ভোট ছিল ভুয়ো, নকল, গোষ্ঠীভুক্ত, অবৈধ ঠিকানাযুক্ত এবং ফর্ম ৬-এর অপব্যবহার করে যুক্ত নতুন ভোটারদের।
বিভাগ: ব্রেকিং নিউজ
এসইও ট্যাগ: #swadesi, #News, ‘বিরাট নির্বাচনী জালিয়াতি’ প্রকাশে রাহুলকে ‘সত্যিকারের দেশপ্রেমিক’ বললেন সিব্বল
