
নয়াদিল্লি, ২৫ জানুয়ারি (পিটিআই): কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু শনিবার বলেন, বিশ্বজুড়ে মানুষ ক্রমশ বুদ্ধ ধম্মের দিকে ঝুঁকছে এবং এই অবস্থায় করুণা, অহিংসা, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের নীতিগুলি সংরক্ষণ, প্রচার ও বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার বিশেষ দায়িত্ব ভারতের ওপর বর্তায়।
এখানে ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত দ্বিতীয় গ্লোবাল বৌদ্ধ সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে সংসদীয় বিষয়ক ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী রিজিজু বৌদ্ধ ধর্মের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সর্বজনীন আবেদন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বৌদ্ধ দর্শন শুধু বৌদ্ধদের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্যই প্রাসঙ্গিক।
বিভিন্ন দেশ থেকে আগত বিশিষ্ট ভিক্ষু, পণ্ডিত ও বৌদ্ধ সংগঠনের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে সংস্কৃতি ও পর্যটনমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত বৌদ্ধ সংলাপ প্রসারে ভারতের “বিশ্ব নেতৃত্ব”-এর কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত বৌদ্ধ ভিক্ষু, গুরু, পণ্ডিত ও চিন্তাবিদদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে “প্রোঅ্যাকটিভ দায়িত্ব” নিয়েছে, যা শান্তি ও সম্প্রীতির প্রতি ভারতের দীর্ঘস্থায়ী প্রতিশ্রুতিকে আরও জোরদার করেছে।
সংস্কৃতি মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২৪ থেকে ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন বুদ্ধের ভূমি হিসেবে ভারতের ভূমিকা এবং যৌথ প্রজ্ঞা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার “বিশ্ব আলোকবর্তিকা” হিসেবে দেশের অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করে।
রিজিজু বলেন, বিশ্বজুড়ে মানুষ যখন ধম্মের দিকে ঝুঁকছে, তখন করুণা, অহিংসা, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের নীতিগুলি সংরক্ষণ, প্রচার ও জীবনে ধারণ করার বিশেষ দায়িত্ব ভারতের।
সম্মেলনের মূল বিষয় — ‘যৌথ প্রজ্ঞা, ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠ এবং পারস্পরিক সহাবস্থান’।
শেখাওয়াত জানান, জ্ঞান ভারতম মিশনের অধীনে ভারত সরকার প্রাচীন পাণ্ডুলিপির ডিজিটাইজেশনের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক উদ্যোগ ভারতের সভ্যতাগত ও আধ্যাত্মিক জ্ঞান সংরক্ষণ এবং বিশ্ববাসীর সঙ্গে তা ভাগ করে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে।
তিনি প্রতিনিধিদের ও সাধারণ মানুষকে দক্ষিণ দিল্লির রাই পিথোরা সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে প্রদর্শিত আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী — “দ্য লাইট অ্যান্ড দ্য লোটাস: রেলিক্স অফ দ্য অ্যাওয়েকেন্ড ওয়ান” — পরিদর্শন করে ভগবান বুদ্ধকে শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানান।
এই প্রদর্শনীতে বুদ্ধ-সম্পর্কিত ঐতিহাসিক পিপরহাওয়া রেলিক্স প্রদর্শিত হচ্ছে, যা উনিশ শতকের শেষদিকে আবিষ্কৃত হয়েছিল। সদ্য প্রত্যাবর্তিত পিপরহাওয়া রত্নও এতে অন্তর্ভুক্ত।
তিনি পিপরহাওয়া রেলিক্সকে ভারতের প্রাচীন সভ্যতা ও চিরন্তন আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতীক বলে উল্লেখ করেন।
দু’দিনের এই সম্মেলন আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ কনফেডারেশন (আইবিসি) ও সংস্কৃতি মন্ত্রকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত।
