নয়াদিল্লি, ২৩ জুলাই (পিটিআই) — জাতীয় ক্রীড়া প্রশাসন বিল বুধবার লোকসভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। যদিও এটি আইনে পরিণত হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে, তবুও এর প্রস্তাবনা নিজেই একটি মাইলফলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভারতের ক্রীড়া প্রশাসনকে সংস্কার ও মান্যকরণ করার দিকেই এগিয়ে নিয়ে যাবে। পিটিআই এই বিলের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরছে, যা ক্রীড়া প্রশাসন এবং খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
বয়স এবং মেয়াদ সীমা:
বিলে ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি, মহাসচিব ও কোষাধ্যক্ষ পদের জন্য সর্বোচ্চ তিনটি ধারাবাহিক মেয়াদ (সর্বমোট ১২ বছর) নির্ধারণ করা হয়েছে।
বয়সসীমা ৭০ বছর রাখা হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট খেলাধুলার আন্তর্জাতিক সনদ ও বিধিমালার অনুমতি থাকলে মনোনয়নের সময় তা ৭৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।
কোনও ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা ১৫ জনে সীমাবদ্ধ থাকবে, যাতে সংস্থার উপর আর্থিক চাপ না পড়ে।
এই কমিটিতে অন্তত দুইজন কৃতী খেলোয়াড় এবং চারজন নারী সদস্য থাকা বাধ্যতামূলক।
এই বিধান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রীড়া প্রশাসনে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ এবং খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
জাতীয় ক্রীড়া বোর্ড (NSB):
বিলের সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো জাতীয় ক্রীড়া বোর্ড (NSB), যা সব জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনের (NSFs) স্বীকৃতি প্রদান বা স্থগিত করার চূড়ান্ত ক্ষমতা রাখবে এবং এমনকি আন্তর্জাতিক ফেডারেশনের সঙ্গে “সহযোগিতা” করেও খেলোয়াড়দের কল্যাণে কাজ করতে পারবে।
বোর্ডে একজন চেয়ারপার্সন থাকবে এবং কেন্দ্র সরকার “যোগ্যতা, সততা ও মর্যাদা” সম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে সদস্য নিয়োগ করবে। এই নিয়োগ একটি সার্চ-কাম-সিলেকশন কমিটির সুপারিশে হবে, যার চেয়ারম্যান থাকবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব বা ক্রীড়া সচিব।
এই কমিটিতে থাকবেন:
- ভারতের ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের (SAI) মহাপরিচালক,
- দুইজন অভিজ্ঞ ক্রীড়া প্রশাসক যাঁরা কোনও জাতীয় ক্রীড়া সংস্থায় সভাপতি/মহাসচিব/কোষাধ্যক্ষ ছিলেন,
- একজন বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ যিনি দ্রোণাচার্য, খেলরত্ন বা অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত।
বোর্ডের ক্ষমতা থাকবে, যদি কোনও জাতীয় সংস্থা নির্বাহী কমিটির নির্বাচন না করে বা নির্বাচনে গুরুতর অনিয়ম ঘটে, তাহলে তাদের স্বীকৃতি বাতিল করতে পারবে।
এছাড়াও, বার্ষিক নিরীক্ষিত হিসাব প্রকাশে ব্যর্থতা বা সরকারি অর্থের অপব্যবহার ঘটলে বোর্ড তার স্বীকৃতি স্থগিত করতে পারবে, তবে এর আগে আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।
শুধুমাত্র স্বীকৃত ক্রীড়া সংস্থাই কেন্দ্র সরকারের কাছ থেকে অনুদান বা আর্থিক সহায়তা পাবে।
জাতীয় ক্রীড়া ট্রাইবুনাল:
ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে দেশজুড়ে বিভিন্ন আদালতে ৩৫০-র বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা নির্বাচন ও নির্বাচনের মতো বিষয় নিয়ে খেলোয়াড় ও সংস্থাগুলোর অগ্রগতিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় জাতীয় ক্রীড়া ট্রাইবুনাল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাকে “সিভিল কোর্টের সমস্ত ক্ষমতা” দেওয়া হবে।
এটিতে একজন চেয়ারপার্সন এবং আরও দুইজন সদস্য থাকবেন। চেয়ারপার্সন হবেন সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বা কোনও হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি।
এই নিয়োগও কেন্দ্র সরকারের হাতে থাকবে, এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি কমিটির সুপারিশে হবে, যাতে ক্রীড়া সচিব এবং আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের সচিব সদস্য থাকবেন।
যদি কোনও সদস্য আর্থিক অনিয়ম বা “জনস্বার্থের পরিপন্থী” কাজ করেন, তবে কেন্দ্র সরকার তাদের অপসারণ করতে পারবে।
এই ট্রাইবুনালের আদেশ শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা যাবে, যার ফলে ক্রীড়া সংক্রান্ত মামলায় নিচু আদালতের হস্তক্ষেপ বন্ধ হবে এবং “নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার” সম্ভব হবে।
সুপ্রিম কোর্টে আপিল ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হবে, তবে দেরিতে দাখিলের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকবে আদালতের হাতে।
জাতীয় ক্রীড়া নির্বাচন প্যানেল:
এই প্যানেলও কেন্দ্র সরকার গঠন করবে জাতীয় ক্রীড়া বোর্ডের সুপারিশে।
এতে থাকবেন নির্বাচন কমিশন বা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অবসরপ্রাপ্ত সদস্য, অথবা রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক অথবা ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার — যাদের “যথাযথ অভিজ্ঞতা” থাকবে।
এই প্যানেল ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী কমিটি এবং ক্রীড়াবিদ কমিটির “স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন” পরিচালনায় নির্বাচনী অফিসার হিসেবে কাজ করবে।
বোর্ড এই নির্বাচন প্যানেলের একটি তালিকা প্রস্তুত ও রক্ষণ করবে।
তথ্যের অধিকার (RTI):
সব স্বীকৃত ক্রীড়া সংস্থা থাকবে তথ্যের অধিকার আইন, ২০০৫-এর আওতায় — তাদের কার্যাবলি, দায়িত্ব ও ক্ষমতা সংক্রান্ত বিষয়ে।
এই অংশটি নিয়ে ক্রীড়া মন্ত্রক ও বিসিসিআই (ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড)-র মধ্যে বিরোধ তৈরি হতে পারে, কারণ এখন ক্রিকেট একটি অলিম্পিক খেলা হয়েছে (২০২৮ সালে T20 ফরম্যাটে অভিষেক)।
ফলে বিসিসিআই-কে নিজেকে NSB-এর অধীনে NSF হিসেবে নিবন্ধন করতে হবে।
তবে বিসিসিআই সরকারি অর্থের ওপর নির্ভরশীল নয় এবং RTI-র আওতায় আসার তীব্র বিরোধিতা করেছে। এটি মানতে বিসিসিআই রাজি হবে — এমন সম্ভাবনা কম।
সরকারের বিশেষ ক্ষমতা:
কোনও ক্রীড়া সংস্থা যদি তার নামে “India”, “Indian”, “National” শব্দ বা জাতীয় প্রতীক ব্যবহার করতে চায়, তবে কেন্দ্র সরকারের অনাপত্তি সনদ (NOC) নিতে হবে।
কেন্দ্র সরকার যদি মনে করে “জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত”, তবে এই বিলের কোনও ধারা থেকে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতাও তাদের থাকবে।
সরকার NSB বা অন্য কোনও সংস্থাকে এই বিলের কার্যকর প্রশাসনের জন্য নির্দেশ দিতেও সক্ষম হবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, “বিশেষ পরিস্থিতিতে এবং জাতীয় স্বার্থে” কোনও ক্রীড়া দলের আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণেও যুক্তিসংগত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে সরকার।
পিটিআই PM KHS PM KHS PM
বিভাগ: ব্রেকিং নিউজ
এসইও ট্যাগস: #স্বদেশী, #সংবাদ, বিশ্লেষণ: কীভাবে জাতীয় ক্রীড়া প্রশাসন বিল ভারতীয় খেলাকে প্রভাবিত করবে

