ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত এগিয়ে নিতে চায় কানাডা: শীর্ষ কূটনীতিক

**EDS: THIRD PARTY IMAGE** In this image posted on Nov. 12, 2025, External Affairs Minister S. Jaishankar with Canada Foreign Affairs Minister Anita Anand at G7 Foreign Ministers' Meeting, in Canada. (@DrSJaishankar/X via PTI Photo)(PTI11_12_2025_000013B) *** Local Caption ***

টরন্টো, ২৫ নভেম্বর (AP):

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ সোমবার বলেছেন, গত দুই বছরের টানাপোড়েনের পর কানাডা ও ভারত দ্রুতগতিতে একটি বাণিজ্য চুক্তিকে এগিয়ে নেবে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে অটোয়া নতুন পররাষ্ট্র নীতি গ্রহণ করেছে।

আনন্দের এই মন্তব্য এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত G20 সম্মেলনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের পর। সেখানে তারা নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে স্থগিত থাকা আলোচনা পুনরায় শুরু করতে সম্মত হন।

২০২৩ সালের জুনে ভ্যাঙ্কুভারের কাছে এক কানাডীয় শিখ কর্মীকে হত্যার ঘটনায় নয়া দিল্লির ভূমিকা রয়েছে বলে কানাডীয় পুলিশের অভিযোগের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

আনন্দ বলেন, “দুই দেশের নেতারা স্পষ্ট করেছেন যে এই কাজ যত দ্রুত সম্ভব এগোতে হবে, তাই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুত হবে।”

কার্নে আগামী বছরের প্রথম দিকে ভারত সফর করবেন।

কানাডা বিশ্বের অন্যতম বাণিজ্যনির্ভর দেশ এবং তাদের ৭৫ শতাংশের বেশি রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রে যায়। তবে USMCA বাণিজ্য চুক্তি ২০২৬ সালে পুনর্বিবেচনার জন্য নির্ধারিত।

আনন্দ বলেন, “এটি একেবারে নতুন পররাষ্ট্র নীতি, যা বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায়। নতুন সরকার, নতুন নীতি, নতুন প্রধানমন্ত্রী এবং এমন এক বিশ্বব্যবস্থা যেখানে দেশগুলো আরও সুরক্ষাবাদী হয়ে উঠছে — এটাই কানাডার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়।”

কানাডা চীনের সঙ্গেও সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। গত মাসে APEC সম্মেলনে কার্নে ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠক করেছেন, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঠান্ডা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২৩ সালে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ শিখ কর্মী হরদীপ সিং নিজ্জারের হত্যাকাণ্ডে ভারত সরকারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রকাশ করলে অটোয়া বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করে।

নিজ্জার (৪৫) ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারে শহরের একটি গুরুদ্বারার প্রধান ছিলেন এবং নিজের গাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই কানাডীয় নাগরিক স্বাধীন শিখ রাষ্ট্রের দাবিতে সক্রিয় ছিলেন।

নিজ্জারের হত্যাকাণ্ডে কানাডায় বসবাসরত চার ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তারা বিচারপ্রক্রিয়ার অপেক্ষায় আছেন।

এ বছর জুনে কার্নে মোদিকে আলবার্টায় অনুষ্ঠিত G7 সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানান এবং আগস্টে দুই দেশই শীর্ষ কূটনীতিক পুনর্বহাল করতে সম্মত হলে সম্পর্কের উন্নতি শুরু হয়।

আনন্দ বলেন, “এটি ধাপে ধাপে এগোনোর প্রক্রিয়া। গত ছয় মাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।”

তিনি জানান, দুই দেশই ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার প্রত্যাশা করছে। কানাডা ভারতরের সপ্তম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগকারী।

ট্রাম্প পূর্বে অন্টারিও প্রাদেশিক সরকারের যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত একটি অ্যান্টি-ট্যারিফ বিজ্ঞাপনে ক্ষুব্ধ হয়ে কার্নের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা বন্ধ করে দেন। এর পরই তিনি কানাডাকে “যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য” হওয়ার দাবি তুলে বিতর্কের সৃষ্টি করেছিলেন।

আনন্দ বলেন, কানাডা এখনও ট্রাম্পের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, “আমরা এমন বাস্তবতায় কাজ করছি যেখানে যুক্তরাষ্ট্র তার সব বাণিজ্য সম্পর্ক মৌলিকভাবে বদলে ফেলেছে। আমরা আবার আলোচনার টেবিলে ফেরার অপেক্ষায় আছি।”

(AP)