ভারতে বাড়ছে সিংহের সংখ্যা—উদযাপনের পাশাপাশি উদ্বেগও কি বাড়ছে?

গুজরাটের গির ন্যাশনাল পার্ক ও আশেপাশের অঞ্চলে এশীয় সিংহের সংখ্যা ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৩২% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯১-এ—এমনটাই জানিয়েছে গুজরাট ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের ১৬তম সিংহ গণনা (২৫ মে, ২০২৫ প্রকাশিত)। একদিকে এই সাফল্য সংরক্ষণ আন্দোলনের জন্য গর্বের, অন্যদিকে বাসস্থান সংকট, মানুষ-সিংহ সংঘাত ও পরিবেশগত টেকসইতা নিয়ে নতুন উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।

সংরক্ষণে সাফল্য, কিন্তু চ্যালেঞ্জও আছে

একসময় মাত্র ১৮০-তে নেমে যাওয়া এশীয় সিংহের সংখ্যা এখন ৮৯১, যার মধ্যে ৩৩০টি প্রাপ্তবয়স্ক মাদি—ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধির ইঙ্গিত। আমরেলি জেলায় সবচেয়ে বেশি (৩৩৯), তারপর গির-সোমনাথ (২২২) ও জুনাগড় (১৯১)। শিকার প্রাণীর প্রাচুর্য, মালধারিদের সহনশীলতা ও ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০২৫ সালে ঘোষিত ২,৯২৭ কোটি টাকার ‘প্রজেক্ট লায়ন’-এর অধীনে বারদা ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারিকে দ্বিতীয় বাসস্থান হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গির অঞ্চলের ধারণক্ষমতা সীমিত, এবং মানুষের কাছাকাছি সিংহ থাকার ফলে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।

মানুষ-সিংহ সংঘাত বাড়ছে

সিংহের বিস্তার ২০২০ থেকে ১৬.৬৭% বেড়ে ৩৫,০০০ বর্গকিমি হয়েছে। ৪৯৭টি সিংহ এখন সংরক্ষিত এলাকার বাইরে, যেমন জেটপুর ও বাবরা-জাসদান অঞ্চলে। গ্রামের আশেপাশে সিংহ চলে আসায় গবাদি পশু হত্যা ও মাঝে মাঝে মানুষের মৃত্যুও ঘটছে। গির অঞ্চলের সিংহদের মধ্যে ইনব্রিডিং-এর ঝুঁকি বাড়ছে, যার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা অনেক দিন ধরেই মধ্যপ্রদেশের কুনো ন্যাশনাল পার্কে সিংহ স্থানান্তরের কথা বললেও, গুজরাট সরকার তাদের ‘সাফল্য’ ভাগ করতে নারাজ।

পরিবেশ ও অর্থনীতিতে প্রভাব

সিংহ শিকারী প্রাণী হিসেবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, চাষের জমিতে ক্ষতিকারক তৃণভোজীদের নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবে সংখ্যা বাড়লে শিকার সংকট দেখা দেয়, তখন সিংহ গবাদি পশুর দিকে ঝুঁকে পড়ে। পর্যটন থেকে রাজস্ব বাড়লেও, গিরের আশেপাশে অবকাঠামো উন্নয়ন বাসস্থান সংকট বাড়াচ্ছে। ফলে সংরক্ষণ ও মানুষের নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি।

দুই ধারের তলোয়ার

গুজরাটে সিংহের সংখ্যা বাড়া যেমন সংরক্ষণের সাফল্য, তেমনই বাসস্থান সংকট, সংঘাত ও জেনেটিক ঝুঁকি বাড়ছে। প্রজেক্ট লায়ন ও কুনোতে স্থানান্তর—এই দুই পথেই চাপ কমানো সম্ভব, তবে তার জন্য দরকার স্থানীয় মানুষের সচেতনতা ও শক্তিশালী বাসস্থান ব্যবস্থাপনা। সিংহকে গর্বের প্রতীক হিসেবে উদযাপন করতে হলে, পরিবেশ ও মানুষের নিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় রাখা সবচেয়ে জরুরি।