
ওয়াশিংটন, ২৯ জানুয়ারি (এপি): ট্রাম্প প্রশাসন শিগগিরই ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেল বিক্রির অনুমতি দেবে। ওই বিক্রি থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব প্রথমে পুলিশিং ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক সরকারি পরিষেবায় ব্যয় করা হবে এবং তা ওয়াশিংটনের তত্ত্বাবধানে থাকবে—বুধবার এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
সেনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির শুনানিতে রুবিও বলেন, স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে, যাতে তেল আয় ভেনেজুয়েলাকে স্থিতিশীল করতে সঠিকভাবে ব্যবহার হয়।
“এই অর্থ একটি এমন অ্যাকাউন্টে জমা হবে, যার ওপর আমাদের তত্ত্বাবধান থাকবে,” বলেন রুবিও। তিনি যোগ করেন, প্রক্রিয়াটি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করবে। ভেনেজুয়েলা “নিজেদের জনগণের কল্যাণে ওই অর্থ ব্যয় করবে,” বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বিশ্বের সর্বাধিক প্রমাণিত অপরিশোধিত তেলের মজুত থাকা ভেনেজুয়েলা থেকে কোটি কোটি ব্যারেল তেল বিক্রি কীভাবে পরিচালিত হবে এবং অর্থ কোথায় যাবে—তা নিয়েও নতুন ধারণা দেন রুবিও।
চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ধরা পড়ার পর, দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে পরবর্তী পদক্ষেপ প্রভাবিত করতে তাদের বিপুল তেলসম্পদকে কাজে লাগাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ভর্তুকি দেবে না বলে স্পষ্ট করেন রুবিও। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত পেট্রোলিয়াম বিক্রির ওপর তত্ত্বাবধান কেবল একটি “অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ।” “পুনরুদ্ধার ও রূপান্তরের সময়ে যাতে ব্যবস্থাগত ধস না নামে, সে জন্য আয় বণ্টনের একটি উপায় মাত্র এটি,” বলেন তিনি।
কমিটির ডেমোক্র্যাট ও কিছু রিপাবলিকান সদস্য ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনার আরও বিস্তারিত জানতে চাপ দেন। কানেকটিকাটের সিনেটর ক্রিস মারফি রুবিওর কাছে আশ্বাস চান যে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি হবে ন্যায্য ও স্বচ্ছ, ট্রাম্পঘনিষ্ঠ তেল কোম্পানির পক্ষে সাজানো নয়।
“আপনারা বন্দুকের জোরে তাদের তেল নিচ্ছেন, তা ধরে রেখে বিক্রি করছেন… ৩ কোটির বেশি মানুষের দেশের অর্থ কীভাবে ও কোন কাজে ব্যয় হবে, সেটিও আপনারাই ঠিক করছেন,” বলেন মারফি। “আমাদের অনেকেরই মনে হয়, এটি ব্যর্থতার দিকেই যাবে।”
রুবিও বলেন, মাদুরোর শাসনামলে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের সুবিধা পেয়েছে দেশের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতারা এবং চীনের মতো দেশগুলো, যারা ছাড়ে ভেনেজুয়েলার তেল কিনত। এখন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব অবৈধ তেল চালান জব্দে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করছে বলেও জানান তিনি।
রুবিও বলেন, অর্থ কীভাবে ব্যয় করা যাবে বা যাবে না—সে বিষয়ে ভেনেজুয়েলার বর্তমান নেতৃত্বকে নির্দেশনা দেবে যুক্তরাষ্ট্র এবং নির্ধারিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার নিশ্চিত করতে অডিট করা হবে। পুলিশিং বা ওষুধ কেনার জন্য এই অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাদুরো সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র বৈধ মনে না করায় সৃষ্ট আইনি জটিলতা এবং আমেরিকান ঋণদাতাদের হাতে অর্থ জব্দ এড়াতে শুরুতে এই তহবিল কাতারে স্থাপন করা হয়েছিল, বলেন রুবিও।
ইতিমধ্যেই শত শত মিলিয়ন ডলার আলাদা করে রাখা হয়েছে এবং আরও সর্বোচ্চ ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আসতে পারে বলে তিনি জানান।
“এটি ভেনেজুয়েলারই একটি অ্যাকাউন্ট, তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এখানে একটি ব্লকিং মেকানিজম হিসেবে কাজ করছে,” বলেন রুবিও। “আমরা কেবল অর্থ বিতরণ নিয়ন্ত্রণ করি, প্রকৃত অর্থের মালিকানা নিয়ন্ত্রণ করি না।”
চলতি মাসের শুরুতে ভারপ্রাপ্ত ভেনেজুয়েলান প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, তেল বিক্রির অর্থ দুটি সার্বভৌম সম্পদ তহবিলে যাবে—একটি সংকটাপন্ন স্বাস্থ্যসেবা সহায়তায় এবং অন্যটি বিদ্যুৎ গ্রিডসহ জনপরিকাঠামো জোরদারে।
দেশটির হাসপাতালগুলো এতটাই অপ্রস্তুত যে রোগীদের সিরিঞ্জ থেকে অস্ত্রোপচারের স্ক্রু পর্যন্ত নিজেরাই জোগাড় করতে হয়। ল্যাব ও ইমেজিং পরীক্ষার জন্যও তাদের বেসরকারি হাসপাতালে টাকা দিতে হয়।
মঙ্গলবার বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের পুনর্গঠন ঘোষণা উপলক্ষে টেলিভিশনে ভাষণ দিতে গিয়ে রদ্রিগেজ বলেন, মাদুরো ধরা পড়ার পর থেকে তার সরকার ও মার্কিন প্রশাসন “সম্মানজনক ও সৌজন্যমূলক যোগাযোগের পথ” স্থাপন করেছে।
বুধবার রুবিওর মন্তব্য নিয়ে রদ্রিগেজ বা তার সরকারের প্রেস অফিস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
রদ্রিগেজের অনুরোধে গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার আইনপ্রণেতারা দেশের জ্বালানি আইনের সংস্কার নিয়ে বিতর্ক শুরু করেছেন। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বেসরকারি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। (এপি) GRS GRS
বিভাগ: ব্রেকিং নিউজ
SEO ট্যাগস: #swadesi, #News, ভেনেজুয়েলার তেল আয়ের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রুবিওর বিস্তারিত
