মেসি ইভেন্ট স্টেডিয়াম ভাঙচুর: তদন্ত কেন্দ্রীয় সংস্থায় হস্তান্তরের দাবিতে দায়ের হওয়া আবেদন শুনবে কলকাতা হাইকোর্ট

কলকাতা, ১৫ ডিসেম্বর (পিটিআই) শনিবার সল্টলেক স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসির প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে দর্শকদের তাণ্ডবের রেশ সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে গিয়ে পৌঁছয়। কার্যনির্বাহী প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া তিনটি পৃথক জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) গ্রহণের অনুমতি দেন।

এই আবেদনগুলিতে স্টেডিয়ামের সহিংসতার তদন্ত সিবিআই, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস (এসএফআইও)-র মতো কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় ও মৈনাক ঘোষাল পৃথকভাবে এই আবেদনগুলি দায়ের করেছেন। এগুলি চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে একসঙ্গে শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।

অধিকারীর পক্ষে উপস্থিত হয়ে আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য শনিবারের জনতার অশান্তির কারণ খুঁজে বের করার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন দায়েরের অনুমতি চান। তিনি রাজ্য সরকারের গঠিত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আশিম কুমার রায়ের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির ক্ষমতাকেও চ্যালেঞ্জ করেন।

এই ঘটনার ফলে গোটা বিশ্বের সামনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ পুড়েছে বলে আবেদনকারীর অভিযোগ।

অন্য দুটি আবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাজ্য নিযুক্ত কমিটি তড়িঘড়ি গঠন করা হয়েছে এবং টিকিট বিক্রি ও অনুষ্ঠানসংক্রান্ত সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনসহ সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মেরও তদন্ত হওয়া উচিত।

বর্তমানে মামলার তদন্তকারী বিধাননগর পুলিশ টিকিট বিক্রি ও বিতরণের দায়িত্বে থাকা সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছে এবং সংস্থা ও অনুষ্ঠানের প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্তের মধ্যে আর্থিক লেনদেন বন্ধ করতে বলেছে। শতদ্রু দত্তকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

রাজ্য নিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আশিম কুমার রায়ের নেতৃত্বাধীন উচ্চস্তরের কমিটি, যার সদস্য হিসেবে মুখ্য সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবও রয়েছেন, রবিবার ভাঙচুর হওয়া স্টেডিয়াম পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পর্যালোচনা করেছে এবং সাংবাদিকদের জানিয়েছে যে আগামী পনেরো দিনের মধ্যে তারা রিপোর্ট জমা দেবে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে দায়িত্ব নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করাই কমিটির কাজ।

আনুমানিক দুই কোটিরও বেশি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। মেসির সংক্ষিপ্ত ও কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত উপস্থিতি—২০১১ সালের পর প্রথম—দেখে বড় অংশের দর্শক হতাশ হয়ে পড়েন, কারণ দূরদূরান্ত থেকে এসে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও তারা তাদের প্রিয় তারকার এক ঝলক দেখতে পাননি। এর ফলেই নজিরবিহীন ভাঙচুর চালানো হয় বলে জানানো হয়েছে। PTI SMY MNB

বিভাগ: ব্রেকিং নিউজ

এসইও ট্যাগ: #swadesi, #News, Messi event stadium rampage: Cal HC to hear petitions seeking transfer of probe to central agencies