
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ব্রিটেনকে আহ্বান জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে গেলেও প্রতিবেশীদের পাশে থাকার জন্য।
- ম্যাক্রোঁ বলেন, ফ্রান্স ও ব্রিটেন একসঙ্গে গণতন্ত্র, আইন ও আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার পক্ষে দাঁড়িয়ে ‘ইউরোপকে বাঁচাবে’।
- এই সফর ছিল রাজকীয় আড়ম্বর ও কঠিন রাজনৈতিক আলোচনা (ইউক্রেন ও অভিবাসন)–এর সংমিশ্রণ।
- ম্যাক্রোঁ বলেন, ইউরোপকে অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে হবে এবং আমেরিকা ও চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে।
- ব্রেক্সিটের পর কোনো ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রধানের প্রথম ব্রিটেন সফর, যা দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দেয়।
সংসদে ম্যাক্রোঁর ভাষণ
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টের দুই কক্ষের সদস্যদের উদ্দেশে ম্যাক্রোঁ বলেন:”ব্রিটেন ও ফ্রান্স এমন এক বিশ্বব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে, যা আইন, ন্যায়বিচার ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর ভিত্তি করে—যা আজ প্রতিনিয়ত আক্রমণের মুখে।”
- তিনি বলেন, “আমাদের জোট বিশ্বকে দেখাতে হবে, আমাদের ঐক্য পার্থক্য গড়ে তুলতে পারে।”
রাজকীয় অভ্যর্থনা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়
- ম্যাক্রোঁ ও তাঁর স্ত্রী ব্রিজিতকে স্বাগত জানান প্রিন্স উইলিয়াম, ক্যাথরিন, রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা।
- উইন্ডসর ক্যাসেলে রাজকীয় ভোজে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক ও সেলিব্রিটি উপস্থিত ছিলেন।
- ম্যাক্রোঁ বায়ু ট্যাপেস্ট্রি (১০৬৬ সালের নরম্যান বিজয় চিত্রিত ৭০ মিটার দীর্ঘ সূচিকর্ম) ব্রিটেনে পাঠানোর চুক্তি করেন, যা সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত ব্রিটিশ মিউজিয়ামে প্রদর্শিত হবে।
অভিবাসন ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা
- ম্যাক্রোঁ ও প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার অভিবাসন, প্রতিরক্ষা ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন।
- ২০২৪ সালে ৩৭,০০০-এর বেশি মানুষ ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পার হতে গিয়ে ধরা পড়েন এবং ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে সংখ্যাটি ২০,০০০-এর বেশি, যা আগের বছরের তুলনায় ৫০% বেশি।
- ব্রিটেন ও ফ্রান্স চোরাচালান বন্ধে একাধিক চুক্তি করেছে, কিন্তু সীমিত সাফল্য পেয়েছে।
- ফ্রান্স, ব্রিটেনের “ওয়ান-ইন, ওয়ান-আউট” প্রস্তাব বিবেচনা করছে, যাতে উভয় দেশ কিছু অভিবাসীকে ফেরত পাঠাবে।
- ম্যাক্রোঁ বলেন, “ফ্রান্স ও ব্রিটেনের দায়িত্ব—অবৈধ অভিবাসনকে মানবিকতা, সংহতি ও ন্যায়বিচার দিয়ে মোকাবিলা করা।”
ইউক্রেন ইস্যুতে ফোকাস
- ম্যাক্রোঁ ও স্টার্মার ইউক্রেনের জন্য সমর্থন আদায়ে একসঙ্গে কাজ করেছেন।
- উভয় দেশ ইউক্রেনের জন্য আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী গঠনের চেষ্টা করছে, যদিও আমেরিকার আগ্রহ কম এবং রাশিয়া বিরতি মানছে না।
- ম্যাক্রোঁ বলেন, “ইউরোপীয়রা কখনও ইউক্রেনকে ছেড়ে যাবে না—কখনও না।”
উপসংহার:
ফ্রান্স ও ব্রিটেনের এই ঐতিহাসিক সফর দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠন, ইউরোপের নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও অভিন্ন মূল্যবোধ রক্ষার প্রতীক। অভিবাসন ও ইউক্রেন ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
