৩১ অক্টোবর রাত বারোটার ঘন্টা বাজার সাথে সাথেই যখন দরজার সামনে কুমড়োর মুখওয়ালা লণ্ঠনগুলি দপদপ করতে থাকে, তখন আদিম ভয়ের রোমাঞ্চে নিজেকে সমর্পণ করার এর চেয়ে উপযুক্ত সময় আর হয় না। হ্যালোইন ২০২৫ নিয়ে এসেছে এক অনন্য ভয়ঙ্কর সিনেমার তালিকা—নেটফ্লিক্স, প্রাইম ভিডিও এবং ডিজনি+ হটস্টার (এখন জিওহটস্টার)-এ—যেখানে প্রতিটি ছবি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তোমার আরামদায়ক স্ট্রিমিং রাতকে এক ভয়াবহ উত্তেজনায় ভরিয়ে তুলতে। অতিপ্রাকৃত লোককথা থেকে মানসিক দুঃস্বপ্ন পর্যন্ত, এই আটটি হরর রত্নই এই হ্যালোইন মৌসুমে সবচেয়ে শিহরণ জাগানো বিনোদন।
২৮ ইয়ার্স লেটার: দ্য রেজ নেভার ডাইস
ড্যানি বয়েল ও অ্যালেক্স গারল্যান্ডের পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপ্টিক হরর ফ্র্যাঞ্চাইজির জয়ময় প্রত্যাবর্তন এবার নেটফ্লিক্সে, একেবারে হ্যালোইনের সময়। প্রায় তিন দশক পরে, রেজ ভাইরাসে বিধ্বস্ত ইংল্যান্ডের গল্প আবার শুরু—১২ বছর বয়সী স্পাইক ও তার পরিবার দ্বীপের নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে সংক্রমিত মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। ছবিটির আবেগময় গভীরতাই এটিকে আলাদা করে তোলে; এটি এক পিতা-পুত্রের টিকে থাকার গল্প থেকে পরিণত হয় মৃত্যুভীতিতে আচ্ছন্ন এক জগতে বড় হওয়ার দার্শনিক প্রতিফলনে। ২০০২ সালের মূল চলচ্চিত্রের কাঁচা চিত্রগ্রহণ ও মিতব্যয়ী বর্ণনাশৈলীর ধারা বজায় রেখে, “২৮ ইয়ার্স লেটার” একদিকে জম্বি আতঙ্ক জাগায়, অন্যদিকে আবেগের এক অপ্রত্যাশিত ছোঁয়া দেয়—বিশেষত এক গর্ভবতী জম্বিকে ঘিরে এক চমকপ্রদ দৃশ্য যা দর্শকদের সহানুভূতির ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ করে।
তুম্বাড: যখন লোভ জাগায় প্রাচীন অশুভকে
প্রাইম ভিডিও-তে উপলব্ধ “তুম্বাড” ভারতীয় ভয় সিনেমার অন্যতম দৃশ্যত সুন্দর সৃষ্টি, যেখানে লোককথা মিশে গেছে মানব লোভের এক দুঃস্বপ্নে। অবিরাম বৃষ্টিতে ভেজা ১৯শ শতকের মহারাষ্ট্রের এক গ্রামে স্থাপিত এই ছবিতে বিনায়কের এক অভিশপ্ত ধনসম্পদের প্রতি আসক্তি দেখানো হয়েছে—যা পাহারা দেয় হাস্তার, দেবীর এক নির্বাসিত পুত্র। সাধারণ বলিউডি ভয় ছবির সস্তা ভয় ধরানো কৌশলের পরিবর্তে, “তুম্বাড” তার অন্ধকার, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, ভগ্ন ভবন ও নিখুঁত সিনেমাটোগ্রাফিতে গড়ে তোলে গভীর আতঙ্ক। পরিচালক রাহি অনিল বারভের ছয় বছরের শ্রমে তৈরি এই প্রকল্প ভারতীয় হররকে এনে দেয় পরিপক্বতার এক নতুন উচ্চতা।
কবওয়েব: দেয়ালের ভেতরে লুকিয়ে আছে গোপন রহস্য
নেটফ্লিক্সে স্ট্রিমিং হওয়া ২০২৩ সালের এই মানসিক হররটি আট বছরের পিটারকে ঘিরে, যে স্কুলে নির্যাতিত এবং যার অতিরক্ষাকারী বাবা-মা তার ঘরের দেয়াল থেকে আসা অদ্ভুত টোকা শব্দ অস্বীকার করে। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা থ্রিলারটি পরিণত হয় এক প্রকৃত ভয়াবহতায়, যখন পিটার আবিষ্কার করে তার বাবা-মা হয়তো ভয়ঙ্কর কোনো গোপন কথা লুকোচ্ছে—সম্ভবত তার বড় বোন সারা, যাকে তারা দেয়ালের পেছনে আটকে রেখেছে। লিজি ক্যাপলান ও অ্যান্টনি স্টার চমৎকার অভিনয় করেছেন, আর ছোট্ট উডি নরম্যান শিশুমনের আতঙ্ককে জীবন্ত করে তুলেছে।
সিনিস্টার ২: দ্য ডেমন রিটার্নস
নেটফ্লিক্সে উপলব্ধ ২০১৫ সালের এই সিক্যুয়েলটি চালিয়ে যায় ভয়ঙ্কর বুগহুলের গল্প, যে শিশুদের আত্মা গ্রাস করে। একা মা ও তার যমজ পুত্রদের নিয়ে গঠিত এই গল্পে, ছবিটি নতুন দৃষ্টিকোণ দেয়—একটি শিশুর চোখে অভিশপ্ত শক্তির প্রভাব দেখানো হয়েছে। যদিও এটি ২০১২ সালের মূল ছবির উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি, তবুও ১৬মিমি ফিল্ম রিলের ভয়াবহ দৃশ্যগুলো শিহরণ জাগায়।
দ্য স্ট্রেঞ্জার্স: কারণহীন সন্ত্রাস
ব্রায়ান বার্টিনোর ২০০৮ সালের এই হোম ইনভেশন থ্রিলারটি, এখন নেটফ্লিক্সে, হরর সিনেমার অন্যতম বাস্তবধর্মী অভিজ্ঞতা। লিভ টাইলার ও স্কট স্পিডম্যান এক দম্পতির ভূমিকায়, যারা তাদের নিরিবিলি কুটিরে মুখোশধারী তিন অচেনা আক্রমণকারীর হাতে পড়ে। কোনো উদ্দেশ্য নেই, কোনো কারণ নেই—শুধু “তুমি বাড়িতে ছিলে”। এই সরলতাই ছবির শক্তি। স্টিফেন কিং নিজেই একে “নির্মল ভয়ের প্রতিচ্ছবি” বলে উল্লেখ করেছেন।
ডেথ বিকামস হার: অমর অহংকার, চিরন্তন ভয়
রবার্ট জেমেকিস পরিচালিত ১৯৯২ সালের এই ভয়-কমেডি, এখন নেটফ্লিক্সে, অন্ধকার রসিকতা ও শারীরিক ভয়ের নিখুঁত সংমিশ্রণ। মেরিল স্ট্রিপ ও গোল্ডি হান অভিনীত দুই প্রতিদ্বন্দ্বী নারী পান চিরযৌবনের ওষুধ, কিন্তু অমরত্বের ভয়ঙ্কর মূল্য তাদের বুঝতে দেরি হয় না। হলিউডের যৌবনপ্রীতির তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ হিসেবে ছবিটি আজও প্রাসঙ্গিক।
টক টু মি: যখন আত্মারা আসক্তি হয়ে ওঠে
২০২২ সালের অস্ট্রেলিয়ান হরর “টক টু মি”, নেটফ্লিক্সে উপলব্ধ, A24-এর সর্বাধিক সফল ভয় সিনেমা। কিশোর-কিশোরীরা এক অদ্ভুত মৃত হাতের মাধ্যমে আত্মাদের আহ্বান করতে পারে—একটি বিপজ্জনক খেলা শুরু হয় যা শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক পরিণতিতে পৌঁছায়। ছবিটি দুঃখ, অপরাধবোধ ও নিষিদ্ধ কৌতূহলের এক তীব্র অন্বেষণ।
অডিটি: মৃত্যুর পরের প্রতিশোধ
প্রাইম ভিডিও ও ডিজনি+ এ দেখা যাচ্ছে ২০২৪ সালের এই আইরিশ লোকহরর, যেখানে অন্ধ আত্মিক মাধ্যম ডার্সি তার যমজ বোনের হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে নামে। পরিচালক ডেমিয়ান ম্যাকার্থি ভয় দেখানোর জন্য শব্দের চেয়ে নীরবতাকে বেছে নিয়েছেন, যা ছবিটিকে করে তুলেছে এক নিপুণভাবে তৈরি ভূতের গল্প।
এক অবিস্মরণীয় হ্যালোইন
এই হ্যালোইনে, যখন তুমি তোমার সিনেমা ম্যারাথনের জন্য বসে পড়বে, মনে রেখো—সেরা ভয় সিনেমা শুধু চমকে দেয় না, এটি থেকে যায় তোমার মনে, যখন শেষ ক্রেডিটও ফুরিয়ে যায়। আলো নিভিয়ে দাও, দরজা বন্ধ করো, আর প্রস্তুত হও এমন এক রাতের জন্য যেখানে বিনোদন ও প্রকৃত ভয়ের সীমারেখা মিলেমিশে যায়। শেষ পর্যন্ত, হ্যালোইনের আসল মজা তো এখানেই—নিরাপদে বসেই ভয়ে কাঁপা।
— সোনালি

