
নয়াদিল্লি: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু মঙ্গলবার সংবিধানকে দেশের “দিশারি দলিল” বলে বর্ণনা করে উপনিবেশিক মানসিকতার অবশিষ্টাংশ বর্জন করে ভারতের সভ্যতামূলক মূল্যবোধে ভিত্তিক আরও শক্তিশালী ও জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানালেন।
সংবিধান দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংবিধান প্রণেতারা এমন একটি সনদ দেশকে দিয়েছেন যা শুধু শাসন ব্যবস্থার কাঠামো নির্ধারণ করেনি, পাশাপাশি বিদেশি শাসনের দীর্ঘ দশকের পর আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মান পুনর্গঠন করার পথও দেখিয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের সংবিধান শুধু একটি আইনগ্রন্থ নয়। এটি এমন একটি দিশারি দলিল যা আমাদের উপনিবেশিক মানসিকতা ত্যাগ করে আমাদের নিজস্ব আদর্শ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারা গ্রহণে অনুপ্রাণিত করে।” নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংবিধানকে শুধু আইনবিধির বই হিসেবে নয়, একটি “জীবন্ত নৈতিক কম্পাস” হিসেবে দেখতে হবে।
মুর্মু বলেন, সংবিধানের প্রতি সত্যিকারের সম্মান তখনই দেখানো হবে যখন নীতি, প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত আচরণ তার মূল মূল্যবোধ—ন্যায়, স্বাধীনতা, সমতা এবং ভ্রাতৃত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। তিনি বলেন, উপনিবেশিক যুগের ব্যবস্থা ও প্রতীক দূর করার সাম্প্রতিক সংস্কারগুলো আমাদের চিন্তাধারাকে “দেশনির্ভর” করার এবং শাসন ব্যবস্থাকে আরও জনগণমুখী করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, সংবিধানের লক্ষ্য বাস্তবায়নে নাগরিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মৌলিক অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মৌলিক কর্তব্যও। তিনি বলেন, “প্রতিটি ভারতীয়ের দায়িত্ব জাতির ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষা করা এবং তার অগ্রগতিতে ইতিবাচকভাবে অবদান রাখা। তবেই আমরা গড়ে তুলতে পারব সত্যিকারের শক্তিশালী, আত্মনির্ভর ও আত্মবিশ্বাসী ভারত।”
যুবসমাজকে সংবিধান পড়তে ও বুঝতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সচেতন প্রজন্ম—যারা নিজেদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে জানে—সেটাই একটি প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা।
