‘সহ্য করা যায় না’: রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে সন্ত্রাস ব্যবহারে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা ভারতের

**EDS: THIRD PARTY IMAGE** In this image posted on Sept. 5, 2025, Ambassador Parvathaneni Harish, Permanent Representative of India to the United Nations (UN) at New York, delivers statement at the UN General Assembly debate on ‘The situation in the temporarily occupied territories of Ukraine’. (@IndiaatUnitedNations Y/T/X via PTI Photo) (PTI09_05_2025_000164B)

জাতিসংঘ, ২৭ জানুয়ারি (পিটিআই): জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) কড়া ভাষায় জবাব দিয়ে ভারত জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে পাকিস্তানের ধারাবাহিক সন্ত্রাসবাদ ব্যবহাকে সহ্য করা কোনওভাবেই স্বাভাবিক নয়। ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে পাকিস্তানের দূতের “ভ্রান্ত ও আত্মস্বার্থপর” বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায় নয়াদিল্লি।

জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত পার্বথানেনি হরিশ, পাকিস্তানের জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আহমেদের মন্তব্যের জবাবে এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।

সোমবার ‘আন্তর্জাতিক আইনের শাসন পুনর্নিশ্চিতকরণ: শান্তি, ন্যায় ও বহুপাক্ষিকতাকে পুনরুজ্জীবিত করার পথ’ শীর্ষক নিরাপত্তা পরিষদের উন্মুক্ত বিতর্কে আহমেদ ‘অপারেশন সিন্দুর’, জম্মু ও কাশ্মীর এবং সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে বক্তব্য রাখেন। হরিশ বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য পাকিস্তানের একমাত্র এজেন্ডা হলো ভারত ও তার জনগণের ক্ষতি করা।

আহমেদ যখন পরিষদে বলেন যে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর জবাবে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করেছে যে জবরদস্তি বা দায়মুক্তির ভিত্তিতে কোনও ‘নতুন স্বাভাবিক’ তৈরি হতে পারে না, তখন ভারত পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে জানায়—পাকিস্তান যেমন চায়, সন্ত্রাসবাদকে কখনও স্বাভাবিক করা যায় না।

হরিশ বলেন, “পাকিস্তানের প্রতিনিধির কাছ থেকে আমরা ‘নতুন স্বাভাবিক’-এর কথা শুনেছি। আমি আবারও স্পষ্ট করে বলছি, পাকিস্তান যেমন চায়, সন্ত্রাসবাদ কখনও স্বাভাবিক হতে পারে না। রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে পাকিস্তানের ধারাবাহিক সন্ত্রাস ব্যবহাকে সহ্য করা মোটেই স্বাভাবিক নয়।” তিনি যোগ করেন, ভারতের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সবকিছুই ভারত করবে।

তিনি আরও বলেন, “এই পবিত্র সভাকক্ষ পাকিস্তানের জন্য সন্ত্রাসবাদকে বৈধতা দেওয়ার মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে না।”

হরিশ জানান, পাকিস্তানের দূত ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর বিষয়ে “ভ্রান্ত ও আত্মস্বার্থপর” বিবরণ পেশ করেছেন। গত বছরের মে মাসে ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করে, যা পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী পরিকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হয়। এটি ছিল ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত হামলার প্রতিশোধ, যেখানে ২৬ জন নিরীহ নাগরিক নিহত হন।

হরিশ বলেন, “এই বিষয়ে তথ্য একেবারেই স্পষ্ট। এপ্রিল ২০২৫-এ পহেলগাঁওয়ে পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীরা ২৬ জন নিরীহ নাগরিককে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এই সম্মানিত সংস্থাই অপরাধী, সংগঠক, অর্থদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের জবাবদিহির আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছিল। আমরা ঠিক সেটাই করেছি।”

তিনি এপ্রিল মাসে নিরাপত্তা পরিষদের জারি করা প্রেস বিবৃতির উল্লেখ করেন। ওই বিবৃতিতে ১৫ সদস্যের পরিষদ পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছিল।

হরিশ জোর দিয়ে বলেন, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ ভারতের পদক্ষেপ ছিল সংযত, উত্তেজনা না বাড়ানো এবং দায়িত্বশীল। এর লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসী পরিকাঠামো ভেঙে দেওয়া এবং সন্ত্রাসীদের অক্ষম করা।

তিনি বলেন, “৯ মে পর্যন্ত পাকিস্তান ভারতে আরও হামলার হুমকি দিচ্ছিল। কিন্তু ১০ মে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সরাসরি আমাদের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে লড়াই বন্ধের জন্য অনুরোধ জানায়।” তিনি জানান, ভারতীয় অভিযানে পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি, ধ্বংস হওয়া রানওয়ে ও পুড়ে যাওয়া হ্যাঙ্গারের ছবি প্রকাশ্যে রয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে পাকিস্তানের মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে হরিশ বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকার পাকিস্তানের নেই।

তিনি বলেন, “জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ছিল, আছে এবং চিরকালই ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ থাকবে।”

সিন্ধু জলচুক্তি প্রসঙ্গে হরিশ বলেন, ৬৫ বছর আগে ভারত সদিচ্ছা, সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বের মনোভাব নিয়ে এই চুক্তিতে প্রবেশ করেছিল।

তিনি বলেন, “এই ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে পাকিস্তান তিনটি যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে এবং হাজার হাজার সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে চুক্তির আত্মাকে লঙ্ঘন করেছে। পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসী হামলায় হাজার হাজার ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন।”

পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে হরিশ জানান, ভারত “বাধ্য হয়ে ঘোষণা করেছে যে পাকিস্তান, যা সন্ত্রাসবাদের বৈশ্বিক কেন্দ্রস্থল, বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয়ভাবে সীমান্তপারের এবং অন্যান্য সব ধরনের সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত এই চুক্তি স্থগিত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, আইনের শাসন নিয়ে পাকিস্তানের আত্মসমালোচনা করা উচিত।

হরিশ বলেন, “তারা শুরু করতে পারে এই প্রশ্ন দিয়ে—কীভাবে তাদের সশস্ত্র বাহিনী ২৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে একটি সাংবিধানিক অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে এবং তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানকে আজীবন আইনি দায়মুক্তি দিয়েছে।” এটি ছিল গত বছরের নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের অধীনে পাস হওয়া পাকিস্তানের ২৭তম সাংবিধানিক সংশোধনীর প্রতি ইঙ্গিত, যার মাধ্যমে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে আজীবন আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

বিভাগ: ব্রেকিং নিউজ

SEO ট্যাগ: #swadesi, #News, রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে পাকিস্তানের সন্ত্রাস ব্যবহা সহ্য করা স্বাভাবিক নয়: ভারত