সুপ্রিম কোর্টের নোটিশ, বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনে ইসিকে অনুমতি

**EDS: THIRD PARTY IMAGE** In this image via AICC, LoP in the Lok Sabha and Congress leader Rahul Gandhi with CPI (ML) Liberation General Secretary Dipankar Bhattacharya addresses supporters and the media during 'Bihar bandh' called by the INDIA bloc against Special Intensive Revision in the state, in Patna, Wednesday, July 9, 2025. (AICC via PTI Photo)(PTI07_09_2025_000132B)

নতুন দিল্লি, ১০ জুলাই (পিটিআই): সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার ভারতের নির্বাচন কমিশনকে বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision – SIR) চালিয়ে যেতে অনুমতি দিয়েছে এবং একে “সংবিধানিক দায়িত্ব” বলে অভিহিত করেছে।

বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়া ও জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ এই প্রক্রিয়ার সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং প্রাথমিকভাবে মত দেয় যে “আধার কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড এবং রেশন কার্ড” বিহারে এই সংশোধনী প্রক্রিয়ায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

বেঞ্চ বলেছে, “আমরা প্রাথমিকভাবে মনে করি যে ভোটার তালিকার এই বিশেষ নিবিড় সংশোধনে আধার, ভোটার আইডি ও রেশন কার্ড গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত।”

বেঞ্চ লক্ষ্য করেছে যে, ১০টি বিরোধী দলের নেতাসহ কোনও আবেদনকারী নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগে অস্থায়ী স্থগিতাদেশ চায়নি। আদালত এই মামলাগুলির উপর কমিশনের প্রতিক্রিয়া চেয়ে ২৮ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।

বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, নির্বাচন কমিশনকে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে হলফনামা এবং ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে উত্তর-জবাব দাখিল করতে হবে।

বেঞ্চ বলেছে, তারা কমিশনের সদিচ্ছা নিয়ে সন্দেহ করছে না, যেহেতু এটি সংবিধান অনুযায়ী করা হচ্ছে, তবে এর সময় নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বেঞ্চ কমিশনের আইনজীবী প্রবীণ আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদীকে বলেন, “আমরা আপনার সততা নিয়ে সন্দেহ করছি না, তবে মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হচ্ছে। আমরা আপনাদের কাজ থামাতে চাই না, কারণ এটি একটি সংবিধানিক দায়িত্ব।”

দ্বিবেদী জানান, মোট ভোটারের প্রায় ৬০ শতাংশ ইতিমধ্যেই তাদের পরিচয় যাচাই করেছেন এবং আদালতকে আশ্বস্ত করেন যে, কোনও ভোটারের নাম শুনানি ছাড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে না।

বেঞ্চ আরও বলে, “আমরা একটি সংবিধানিক সংস্থাকে তার নির্ধারিত কাজ করতে বাধা দিতে পারি না, আবার আমরা তাদের এমন কিছু করতে দিতেও পারি না যা তাদের এখতিয়ারে নেই।”

সকালবেলায় বেঞ্চ বিহারে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষিতে এই SIR ড্রাইভের সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং বলেন, এটি “গণতন্ত্রের মূল ও ভোটাধিকার” এর সঙ্গে সম্পর্কিত। বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনের এই যুক্তিও প্রত্যাখ্যান করে যে তাদের এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষমতা নেই।

নির্বাচ কমিশন এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে জানায় যে, “আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়”

বেঞ্চ দ্বিবেদীর কাছে জানতে চায় কেন আধার কার্ডকে বিহারে SIR প্রক্রিয়ায় বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বলে যে নির্বাচন কমিশনের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কোনও এখতিয়ার নেই; এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিষয়।

দ্বিবেদী সংবিধানের ধারা ৩২৬ এর উল্লেখ করে বলেন, প্রত্যেক ভোটারকে ভারতীয় নাগরিক হতে হবে এবং “আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়”।

বিচারপতি ধুলিয়া বলেন, “যদি নাগরিকত্ব যাচাই করতে হয়, তবে তা আগে করা উচিত ছিল; এখন কিছুটা দেরি হয়ে গেছে।”

এই প্রক্রিয়া নিয়ে আবেদনের পক্ষে আইনজীবীদের যুক্তি ছিল নির্বাচন কমিশনের এই ক্ষমতা নেই। কিন্তু বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয় যে, কমিশনের এমন উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষমতা সংবিধানে আছে, এবং সর্বশেষ এই ধরনের প্রচেষ্টা ২০০৩ সালে হয়েছিল।

বেঞ্চ বলেন, এই সংশোধনী প্রচেষ্টা গণতন্ত্রের মূল ও ভোটাধিকার স্পর্শ করে — এ কারণে নির্বাচন কমিশনকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

এই প্রশ্নগুলো তুলেছেন আবেদনকারীরা — যাদের মধ্যে রাজনৈতিক দলের নেতার পাশাপাশি সিভিল সোসাইটির সদস্য ও সংগঠন রয়েছে — মূলত নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা ও এই প্রক্রিয়ার সময় নিয়ে।

দ্বিবেদী বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রয়োজন হয়, এবং এই SIR সেই উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি নির্বাচন কমিশনের এটি করার অধিকার না থাকে, তাহলে কার আছে?”

তবে নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টকে আবারও আশ্বস্ত করে যে, কোনও নাগরিককে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আগে যথাযথ শুনানি হবে।

শুরুতেই, এনজিও ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস’-এর পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট গোপাল শংকরনারায়ণন বলেন, প্রতিনিধিত্ব আইন (Representation of People Act) অনুযায়ী ভোটার তালিকার সংশোধন অনুমোদিত।

তিনি জানান, এই পুরো SIR প্রক্রিয়ায় প্রায় ৭.৯ কোটি নাগরিক অন্তর্ভুক্ত থাকবেন, অথচ ভোটার আইডি ও আধার কার্ড এখনও গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

এখনও পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে ১০টির বেশি আবেদন দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে প্রধান আবেদনকারী হল ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস’

তাছাড়াও, আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা, তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র, কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল, এনসিপি (এসপি) নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে, সিপিআই নেতা ডি. রাজা, সমাজবাদী পার্টির হরিন্দার সিং মালিক, শিবসেনা (উদ্ধব) নেতা অরবিন্দ সাওয়ান্ত, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার সরফরাজ আহমেদ এবং সিপিআই (এমএল)-এর দীপঙ্কর ভট্টাচার্য-ও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন নির্বাচন কমিশনের আদেশ বাতিলের আবেদন জানাতে।

শ্রেণী: ব্রেকিং নিউজ
এসইও ট্যাগ: #স্বদেশি, #সংবাদ, সুপ্রিম কোর্টের নোটিশ, বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনে ইসিকে অনুমতি