
কলকাতা, ৭ জানুয়ারি (পিটিআই) পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার ঝাড়গ্রাম জেলার নেতাই গ্রামে ১৫ বছর আগে গুলিতে নিহত নয় জনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী ওই গুলিচালনার ঘটনায় প্রাণ হারানোদের প্রতি তাঁর “বিনম্র শ্রদ্ধা ও প্রণাম” জানিয়েছেন। ওই হামলা সশস্ত্র পাহারাদারদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছিল বলে অভিযোগ, যাদের তৎকালীন শাসক সিপিআই(এম) আশ্রয় দিয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “২০১১ সালের এই দিনে ঝাড়গ্রাম জেলার নেতাই গ্রামে হার্মাদ বাহিনীর হাতে নয় জন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। নেতাইয়ের সেই সব শহিদদের প্রতি আমি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাই।”
বিনপুর ব্লকের অন্তর্গত এবং ঝাড়গ্রাম লোকসভা কেন্দ্রের আওতাভুক্ত নেতাই গ্রামটি, যা তৎকালীন মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকা লালগড়ের সীমানায় অবস্থিত, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি জাতীয় স্তরে আলোচনায় আসে। সেদিন সশস্ত্র পাহারাদাররা গ্রামবাসীদের উপর গুলি চালায়, যাতে চার জন মহিলা ও পাঁচ জন পুরুষ নিহত হন এবং আরও ২৮ জন আহত হন। অভিযোগ ছিল, ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি তৎকালীন শাসক সিপিআই(এম)-এর আশ্রয়ে ছিল।
স্থানীয়দের দাবি ছিল, এক স্থানীয় সিপিআই(এম) নেতার বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া সশস্ত্র ব্যক্তিরা মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অজুহাতে গ্রামবাসীদের উপর নানা দাবি চাপিয়ে দিচ্ছিল ও নির্যাতন করছিল। এর বিরোধিতা করতেই ওই মর্মান্তিক ঘটনার সূত্রপাত হয়।
এই ঘটনায় গোটা পশ্চিমবঙ্গে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটি একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়।
পরে মামলাটি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। তারা গুলিচালনার পেছনের পরিস্থিতি এবং এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির ভূমিকা তদন্ত করে।
প্রতি বছর এই দিনে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দারা নেতাইয়ের নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে থাকেন।
পিটিআই এসসিএইচ বিডিসি
