ভারতের বর্ষা—কোটি মানুষের জীবনরেখা—২০২৫ সালে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে পাঁচ দিন আগে, ২৬ মে কেরালায় পৌঁছে গেছে (সাধারণত জুনের ১ তারিখে আসে)। এই অস্বাভাবিক আগমন নিয়ে আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
কেন এত তাড়াতাড়ি এল বর্ষা?
১. শক্তিশালী ম্যাডেন-জুলিয়ান অস্কিলেশন (এমজেও):
এটি ভারত মহাসাগরের উপর দিয়ে পূর্ব দিকে অগ্রসরমান এক বৃহৎ বায়ুমণ্ডলীয় গোলযোগ। এর ফলে মেঘ জমা ও বৃষ্টিপাত বেড়ে যায়, বর্ষার বাতাস আরও দ্রুত ও শক্তিশালী হয়।
২. স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা:
আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ জল দ্রুত বাষ্পীভবন ঘটায়, ফলে বাতাসে জলীয় বাষ্প বাড়ে এবং বর্ষার মেঘ আরও দ্রুত জমে ওঠে।
৩. আরব সাগরের ওপরে দুর্বল প্রতিঘূর্ণী প্রবাহ:
সাধারণত এই প্রবাহ বর্ষার আগমন বিলম্বিত করে। কিন্তু এবার মে মাসে এটি দুর্বল ছিল, তাই বর্ষার বাতাস সহজেই স্থলভাগে প্রবেশ করেছে।
৪. জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বর্ষার আগমন ও বিদায়ের সময়ে অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও বন্যার ঘটনা বাড়ছে।
২০২৫ সালের বর্ষার টাইমলাইন
- কেরালায় বর্ষার শুরু: ২৬ মে (স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ দিন আগে)
- মুম্বই ও কনকনে ভারী বৃষ্টি: ২৮ মে থেকে, লাল সতর্কতা জারি, জলাবদ্ধতা ও পরিবহন বিঘ্ন
আগেভাগে বর্ষার ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক
ইতিবাচক:
- ধান, ডাল, শস্য চাষের জন্য উপযোগী সময়
- খরাপ্রবণ অঞ্চলে জলসংকট কমে
- জলাধারে জলস্তর বাড়ে
নেতিবাচক:
- শহরগুলিতে প্রস্তুতি না থাকায় হঠাৎ বন্যা ও জলাবদ্ধতা
- আগাম বর্ষায় ফসল তোলা ও নির্মাণকাজে সমস্যা
- পরিবহন ও জনজীবনে বিঘ্ন
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
ড. রাজীবন এম. নায়ার (পূর্বতন সচিব, পৃথিবী বিজ্ঞান মন্ত্রক):
“এবারের অকাল বর্ষা সতর্কবার্তা—এটা বিরল নয়, কিন্তু ক্রমশ সাধারণ হয়ে উঠছে। আমাদের বর্ষা ব্যবস্থা ছোট পরিবর্তনেও সংবেদনশীল।”
সুনীতা নারায়ণ (ডিরেক্টর জেনারেল, সিএসই):
“মুম্বইয়ের মতো উপকূলীয় শহরগুলোকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা দ্রুত আধুনিক করতে হবে। অকাল বর্ষা ও উচ্চ জোয়ারের যুগলবন্দিতে শহর অচল হয়ে যেতে পারে।”
সামনে কী হতে পারে?
- আইএমডি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বর্ষা স্বাভাবিক থাকবে, যদিও শুরুটা আগে হয়েছে।
- জুন-জুলাইয়ে পশ্চিম উপকূল, উত্তর-পূর্ব ও মধ্য ভারতে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা।
- এল নিনো দুর্বল হওয়ায় বর্ষা স্থিতিশীল থাকবে বলে পূর্বাভাস।
শেষ কথা
২০২৫ সালের বর্ষার অকাল আগমন ভারতের জন্য যেমন স্বস্তি, তেমনই বড় জলবায়ু পরিবর্তনের ইঙ্গিত। কৃষি ও জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব থাকলেও, শহর ও গ্রামে প্রস্তুতি ছাড়া বিপদের আশঙ্কা থেকেই যায়। দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু সহনশীল পরিকল্পনা এখন আর বিলাসিতা নয়—অত্যাবশ্যক।
রচনা: নিকিতা

