‘মোদি মানেই ভারত, ভারত মানেই মোদি’ ভাবা ভুল: রাহুলকে কটাক্ষের জবাবে বিজেপিকে কংগ্রেসের পাল


কংগ্রেস বুধবার জানিয়েছে, “নরেন্দ্র মোদি মানেই ভারত এবং ভারত মানেই নরেন্দ্র মোদি”—এমন ভাবা সম্পূর্ণ ভুল। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে রাহুল গান্ধীর কটাক্ষের পর বিজেপির সমালোচনার জবাবে কংগ্রেস এই মন্তব্য করে এবং ‘নরেন্দ্র-সারেন্ডার’ মন্তব্যে আরও জোর দেয়।

কংগ্রেসের মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান পবন খেরা বলেন, রাহুল গান্ধীর “নরেন্দ্র…সারেন্ডার” মন্তব্য আসলে দেখিয়ে দেয়, কীভাবে প্রধানমন্ত্রী বারবার ভারতের জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছেন, যেখানে দক্ষতা ও ‘বিশ্বগুরু’ মানানসই নেতৃত্ব দেখানোর দরকার ছিল।

খেরা বলেন, “বিজেপি গত ১১ বছর ধরে তাদের নায়কের জন্য ‘মুকাদ্দর কা সিকন্দর’ নামের ছবি বানাচ্ছিল। কিন্তু ছবি তৈরি হলে দেখা গেল, সেটা ‘নরেন্দ্র কা সারেন্ডার’। সাহস তো ইনজেকশনে আসে না, চরিত্রের মধ্যেই থাকতে হয়। বিজেপি-আরএসএসের ইতিহাস কাপুরুষতার।”

তিনি আরও বলেন, “যখন এমন কেউ দেশের নেতৃত্বে আসে, তখন দেশের ভবিষ্যৎ বিপদের মুখে পড়ে—এটা এখনই দেখা যাচ্ছে।” খেরার এই মন্তব্য আসে একদিন পর, যখন রাহুল গান্ধী ভোপালে বলেন, “ট্রাম্প সেখান থেকে সিগন্যাল দিতেই ফোন তুলে বললেন, ‘মোদি জি, নরেন্দ্র, সারেন্ডার’…আর মোদি জি ট্রাম্পের আদেশে ‘জি হুজুর’ বললেন।” রাহুল স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালে আমেরিকার সপ্তম নৌবহর, অস্ত্র ও বিমানবাহী রণতরী এলেও ইন্দিরা গান্ধী আত্মসমর্পণ করেননি, বরং জাতীয় স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

রাহুল আরও বলেন, বিজেপি ও আরএসএস স্বাধীনতার পর থেকেই “সারেন্ডার লেটার” লিখতে অভ্যস্ত।

বিজেপি অভিযোগ করে, রাহুলের “সারেন্ডার” মন্তব্য অপারেশন সিন্দুরের সাফল্যকে খাটো করে এবং সশস্ত্র বাহিনীকে অপমান করে। বিজেপি মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী বলেন, রাহুল গান্ধী পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী বা জঙ্গি নেতাদের থেকেও বেশি প্রতিবেশী দেশের পক্ষে কথা বলেছেন, যা “বিপজ্জনক মানসিকতার” পরিচয়।

এর জবাবে কংগ্রেসের খেরা বলেন, “যখন ভারতীয় সেনা পাকিস্তানকে হাঁটু গেড়ে ফেলেছিল, তখন ট্রাম্প ফোন করে মোদিকে আত্মসমর্পণ করালেন। ট্রাম্প বহুবার বলেছেন, তিনি বাণিজ্যিক চাপ দিয়ে যুদ্ধবিরতি করিয়েছেন, কিন্তু মোদি আজও তার জবাব দেননি। কারণ নাম নরেন্দ্র, কাজ সারেন্ডার—এটাই সত্যি।”

কংগ্রেস আরও জানতে চেয়েছে, দেশের আত্মসম্মান নিয়ে এই সমঝোতা কেন হল, যুদ্ধবিরতির শর্ত কী ছিল, হাফিজ সঈদ, আজহার মাসুদের মতো জঙ্গিরা কোথায়? খেরা বলেন, “গত এক মাস ধরে শুধু সস্তা ডায়লগ শোনা যাচ্ছে, কোনো উত্তর নেই।”

তিনি বলেন, “র‍্যালির প্রেম চোপড়াকে জিজ্ঞেস করি, ট্রাম্পের দাবির জবাব কেন দেন না? সাহস না থাকলে আমাদের প্রশ্নের উত্তর দিন, যারা প্রশ্ন করে, তাদের পাকিস্তানের ভাষায় কথা বলার অভিযোগ তোলা হয়।”

কংগ্রেস দাবি করেছে, বিরোধীরা দেশের কোটি কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। খেরা বলেন, “নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, কিন্তু দেশ মানে প্রধানমন্ত্রী নয়। কেউ প্রধানমন্ত্রী, দেশের সেবক হতে পারেন, কিন্তু ভারত পরিচিত হয় জম্বুদ্বীপ, হিন্দুস্তান, ভারত, ইন্ডিয়া—এসব নামে, নরেন্দ্র মোদি নামে নয়, কোনোদিনও হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “যারা বলে, নরেন্দ্র মোদির আত্মসমর্পণ মানে ভারতের আত্মসমর্পণ, তারা শুনে রাখুন, এই দেশ ১৪০ কোটি মানুষের, সবার মতোই মোদিরও। তাই কখনো ভাববেন না, মোদি মানেই ভারত, ভারত মানেই মোদি—এটা ভুল। মোদি দেশের প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু তিনি দেশ নন।”

খেরা অভিযোগ করেন, ট্রাম্প ২১ দিনে ১১ বার বলেছেন, আমেরিকা ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি করিয়েছে, এতে মোদি সরকারের “আত্মসমর্পণ” স্পষ্ট। শিমলা চুক্তির ঐতিহ্য ভেঙে ভারত-পাকিস্তানকে এক কাতারে এনে, আমেরিকাকে নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনা করতে দিয়েছেন মোদি—যা ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থানকে ক্ষুণ্ণ করেছে।

খেরা বলেন, “১১ বছরের মোদি শাসনে প্রতিবারই আত্মসমর্পণ দেখা গেছে। কালো টাকা ফেরত, বেকারত্ব দূর, কৃষকের আয় দ্বিগুণ, চীনের চোখে চোখ—সবকিছুতেই আত্মসমর্পণ।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার যখন চীন নিয়ে কথা বলে, তখন তাদের ক্লিন চিট দেয়, উত্তর-পূর্বের মানুষের চেহারা নিয়ে উপহাস করে, গণেশজির চোখ ছোট বলে অপমান করে। মোদি কেন চীনা পণ্যের আমদানি বন্ধের নীতি নেন না?”

খেরা অভিযোগ করেন, মোদি সংলাপ ও বক্তৃতার প্রশিক্ষণ পেয়েছেন অভিনেতা পরেশ রাওয়ালের কাছে। তিনি বলেন, “দেশের নীতিগুলো চালায় ট্রোল, আর পররাষ্ট্রনীতি চালায় একজন ‘আত্মসমর্পণকারী’।”