কাশ্মীরে ট্রেন: মহারাজা হরি সিংহের স্বপ্ন সত্যি হতে চলেছে

রেয়াসি, ৪ জুন (পিটিআই) — শিবালিক ও পীর পাঞ্জাল পাহাড় পেরিয়ে কাশ্মীর উপত্যকায় ট্রেন পৌঁছানোর স্বপ্ন, যা এক শতাব্দীরও বেশি পুরনো, এবার সত্যি হতে চলেছে। আগামী শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কাটরা থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত বন্দে ভারত ট্রেনের সূচনা করবেন। একইসঙ্গে উদ্বোধন হবে চেনাব সেতুর, যা হবে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলওয়ে আর্চ সেতু।

একজন সিনিয়র রেলওয়ে কর্মকর্তা বলেন, “ডোগরা মহারাজাদের ১৯ শতকে করা এই স্বপ্ন স্বাধীন ভারতের অন্যতম বড় পরিকাঠামো সাফল্যে রূপ নিতে চলেছে।”

মহারাজা হরি সিংহের নাতি বিক্রমাদিত্য সিংহ বলেন, ১৩০ বছরেরও বেশি আগে ডোগরা শাসকের যে পরিকল্পনা ছিল, তা আজ বাস্তবায়িত হতে দেখে তিনি গর্বিত। তিনি জানান, “কাশ্মীর উপত্যকায় রেল প্রকল্প প্রথম মহারাজা প্রতাপ সিংহের সময়ে ভাবা হয়েছিল। এটি শুধু জম্মু-কাশ্মীর নয়, গোটা দেশের জন্যই গর্বের বিষয়।”

তৎকালীন ডোগরা শাসক ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ারদের দিয়ে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের জরিপ করান। ১৮৯৮ থেকে ১৯০৯ সালের মধ্যে তিনটি রিপোর্ট তৈরি হলেও, দুটি রিপোর্ট বাতিল হয়। প্রথম রিপোর্টে জম্মু ও কাশ্মীরের মধ্যে ইলেকট্রিক রেলওয়ে প্রস্তাবিত হয়েছিল, কিন্তু উচ্চতার কারণে তা বাতিল হয়। দ্বিতীয় রিপোর্টে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ থেকে ঝেলাম নদী বরাবর রেললাইন প্রস্তাব করা হয়, সেটিও গ্রহণ হয়নি। তৃতীয় রিপোর্টে চেনাব নদীর পাশে রেয়াসি এলাকার মাধ্যমে রেললাইন সুপারিশ করা হয়, সেটি অনুমোদিত হয়।

পরবর্তীতে কয়লা উত্তোলন ও বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নিয়ে পরিকল্পনা হলেও, মহারাজা প্রতাপ সিংহের মৃত্যু এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের কারণে প্রকল্পটি স্থগিত হয়ে যায়।

প্রায় ছয় দশক পর, ১৯৮৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী জম্মু-উধমপুর-শ্রীনগর রেললাইন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তখন খরচ ধরা হয়েছিল ৫০ কোটি টাকা, পাঁচ বছরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১৩ বছরে মাত্র ১১ কিমি রেললাইন তৈরি হয়, যেখানে ১৯টি টানেল ও ১১টি সেতু ছিল, খরচ হয় ৩০০ কোটি টাকা।

এরপর উধমপুর-কাটরা-বারামুলা প্রকল্প শুরু হয়, যার ভিত্তিপ্রস্তর ১৯৯৬-৯৭ সালে বিভিন্ন প্রধানমন্ত্রী স্থাপন করেন। প্রকল্পটি ভূগোল, আবহাওয়া ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বহুবার বিলম্বিত হয়, ফলে খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩,৮০০ কোটি টাকারও বেশি।

২০০২ সালে এই প্রকল্পকে জাতীয় প্রকল্পের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ২৭২ কিমি রেলপথের মধ্যে ইতিমধ্যে ২০৯ কিমি চালু হয়েছে বিভিন্ন পর্যায়ে—২০০৯-এ কাজিগুন্ড-বারামুলা, ২০১৩-তে বানিহাল-কাজিগুন্ড, ২০১৪-তে উধমপুর-কাটরা, ২০২৩-এ বানিহাল-সাঙ্গলদান। কাটরা-সাঙ্গলদান সংযোগটি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সম্পূর্ণ হয়েছে।

এই প্রকল্পে রয়েছে ৩৮টি টানেল ও ৯২৭টি সেতু। চেনাব নদীর ওপর ৩৫৯ মিটার উঁচু সেতুটি আইফেল টাওয়ারের থেকেও ৩৫ মিটার উঁচু, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলওয়ে আর্চ সেতু।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, দুর্গম ও সন্ত্রাসপ্রবণ অঞ্চলে নির্মাণকাজের জন্য ২১৫ কিমি অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি হয়েছে, যা আগে শুধু পায়ে হেঁটে বা নৌকায় যাওয়া যেত। এতে ৭০টি প্রত্যন্ত গ্রামের দেড় লাখ মানুষের জীবন বদলে গেছে—স্থানীয় বাজার, খাবারের দোকান, মেরামতের দোকান গড়ে উঠেছে, জীবিকা বেড়েছে।

একজন কর্মকর্তা বলেন, “যে প্রকল্প একসময় রাজকীয় স্বপ্ন ছিল, আজ তা জাতীয় সংহতি ও প্রকৌশল কৃতিত্বের প্রতীক।” PTI AB ZMN

Category: Breaking News

SEO Tags: #swadesi, #News, Train to Kashmir: Maharaja Hari Singh’s dream turns a reality