অপারেশন সিন্দুর কূটনৈতিক প্রচার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে থাকবেন তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতা, ৯ জুন (পিটিআই)

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ও জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডাকা উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। এই বৈঠকে সেই বহুদলীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন, যারা ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর ভারতের অবস্থান বিশ্বের বিভিন্ন রাজধানীতে তুলে ধরেছিলেন।

সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মে মাসের শেষদিকে জাপান ও অন্যান্য এশীয় দেশ সফরকারী একটি প্রতিনিধিদলের সদস্য ছিলেন।

এই প্রতিনিধিদলে ৫০ জনেরও বেশি সদস্য ছিলেন, যাঁদের বেশিরভাগই বর্তমান সাংসদ। তাঁদের দায়িত্ব ছিল পাকিস্তান থেকে উৎসারিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর অবস্থান ও ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর কারণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরা।

তৃণমূলের এক সিনিয়র নেতা নিশ্চিত করেছেন, “হ্যাঁ, উনি (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) বৈঠকে থাকবেন এবং নিজের অভিজ্ঞতা ও মতামত জানাবেন।”

অপারেশন সিন্দুরের পর ভারতের কূটনৈতিক বার্তা আরও জোরদার করতে এই প্রতিনিধিদলগুলি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ রাজধানীতে পাঠানো হয়েছিল।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধিদল ২১ মে জাপান সফরে যান এবং দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ একাধিক দেশ সফর করেন।

এই প্রতিনিধিদলগুলির নেতৃত্বে ছিলেন জেডিইউ সাংসদ সঞ্জয় কুমার ঝা। অন্য প্রতিনিধিদলগুলির নেতৃত্বে ছিলেন বিজেপি, জেডিইউ, শিবসেনা এবং কংগ্রেস, ডিএমকে, এনসিপি (এসপি)-র সাংসদরা।

মোট সাতটি প্রতিনিধিদলের মধ্যে চারটি এনডিএ এবং তিনটি বিরোধী দলের নেতৃত্বে ছিল।

প্রধানমন্ত্রী মোদী বৈঠকে সাতটি প্রতিনিধিদলের সকলের মতামত শুনবেন। বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ইতিমধ্যেই প্রতিনিধিদলগুলির সঙ্গে বৈঠক করে তাঁদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন।

অপারেশন সিন্দুর কী?

অপারেশন সিন্দুর ৭ মে ভারত শুরু করে, যা জম্মু-কাশ্মীরের পাহেলগামে ২২ এপ্রিলের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার (যেখানে ২৬ জন, বেশিরভাগই পর্যটক নিহত হন) পাল্টা প্রতিক্রিয়া।

এই অভিযানে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটিতে লক্ষ্যভিত্তিক বিমান ও স্থল হামলা চালায়।

এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা পৌঁছে দেয় এবং বৈশ্বিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে।

বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সফরের অভিজ্ঞতা ও মতামত শেয়ার করবেন।

এটি ভারতের সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী কূটনৈতিক কৌশলের অংশ, যেখানে বিরোধী দলের সাংসদরাও সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।