হাওড়া সেক্স র‍্যাকেট: মূল অভিযুক্ত আরিয়ান খান গ্রেফতার, মা ও চক্রনেত্রী শ্বেতা খান এখনও পলাতক

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ অভিযানে দক্ষিণ কলকাতার গল্ফ গ্রিন এলাকা থেকে হাওড়া সেক্স ও পর্নোগ্রাফিক ফিল্ম র‍্যাকেটের অন্যতম মূল অভিযুক্ত আরিয়ান খানকে বুধবার গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার এক সঙ্গীকেও আটক করা হয়েছে। গত পাঁচ দিন ধরে পলাতক থাকার পর আরিয়ানকে গ্রেফতার করা হয়। তবে তার মা ও মামলার মূল চক্রনেত্রী শ্বেতা খান ওরফে ফুলতুসি এখনও পলাতক রয়েছেন।

হাওড়া পুলিশ কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, “আমরা গল্ফ গ্রিনের একটি বাড়ি থেকে আরিয়ানকে ধরেছি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।” এর আগে, পুলিশ শ্বেতার মাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিল। শ্বেতার তিন বছরের কন্যা সন্তানকেও কলকাতার এক অজ্ঞাত ব্যক্তির বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গত সপ্তাহে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি এলাকার এক ২২ বছরের তরুণী ছয় মাস ধরে বন্দিদশা থেকে পালিয়ে আসার পর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে আসে। অভিযোগ, ওই তরুণীকে উচ্চ বেতনের চাকরির লোভ দেখিয়ে ডোমজুড়ের ফ্ল্যাটে আটকে রেখে পর্নোগ্রাফি ভিডিওতে অভিনয় ও বার ডান্সার হিসেবে কাজ করতে জোর করা হয়েছিল। রাজি না হওয়ায় তাকে নৃশংসভাবে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় সাগর দত্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ জানিয়েছে, আরিয়ান ও শ্বেতা ‘ইশারা প্রোডাকশন’ নামে একটি ভুয়ো ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির আড়ালে এই র‍্যাকেট চালাতেন। নতুন চাকরির টোপ দিয়ে তরুণীদের ফাঁদে ফেলে পরে তাদের পর্নোগ্রাফি ও যৌন ব্যবসায় বাধ্য করা হতো।

জাতীয় মহিলা কমিশন এই ঘটনার স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত শুরু করেছে এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিপিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে। ভুক্তভোগীর মা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

শ্বেতা খান ও তার ছেলে এখনও পলাতক থাকায় পুলিশ তাদের খোঁজে তল্লাশি জারি রেখেছে।