মমতা মোদীকে চিঠি লিখে বাংলাদেশের সরকারকে চাপ দেওয়ার দাবি তুললেন, রবীন্দ্র সম্পত্তি ভাঙচুরে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ চাইলেন

কলকাতা, ১২ জুন (পিটিআই)

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জ জেলায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৈতৃক কাচারিবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। তিনি চিঠিতে লেখেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শুধু একটি বাড়ি নয়, বরং উপমহাদেশের এক “সৃজনশীলতার বিশাল উৎস”।

ঘটনাটি নিয়ে গভীর বেদনা প্রকাশ করে মমতা লেখেন, “আমি অনুরোধ করছি, আপনি যেন প্রতিবেশী দেশের সরকারের সঙ্গে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তুলুন, যাতে এই জঘন্য ও বোধহীন ঘটনার দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা যায়।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র কাচারিবাড়িতে ৮ জুন পার্কিং ফি নিয়ে এক দর্শনার্থী ও কর্মীর মধ্যে বিবাদের জেরে ১১ জুন একদল দুষ্কৃতী বাড়িটিতে হামলা চালায়। বাড়িটি বর্তমানে রবীন্দ্র স্মৃতি জাদুঘর হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। হামলাকারীরা অডিটোরিয়াম-সহ বাড়ির বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করে এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের ওপর হামলা চালায়।

চিঠিতে মমতা আরও লেখেন, “যদিও অপূরণীয় ক্ষতি ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে, তবু আন্তর্জাতিক স্তরে জোরালো প্রতিবাদ ভবিষ্যতে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর এমন আক্রমণ রোধে অন্তত কিছুটা ভূমিকা রাখবে। রবীন্দ্রনাথ শুধু বাংলার নয়, গোটা বিশ্বের।”

বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর আপাতত দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করেছে এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

মমতা চিঠিতে উল্লেখ করেন, “রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনের বহু সময় এখানে কাটিয়েছেন, এবং তাঁর অনেক বিখ্যাত রচনা এখানে লেখা হয়েছে। তাঁর সৃষ্টিশীলতা এই পৈতৃক সম্পত্তির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এই বাড়িটি ভাঙচুর মানে আমাদের উপমহাদেশের সৃজনশীলতার এক বিরাট উৎসে আঘাত।”

তিনি আরও লেখেন, “বাংলার মানুষের কাছে এই হামলা রবীন্দ্রনাথের ঐতিহ্যের ওপর আঘাত। আজ রবীন্দ্রনাথের পৈতৃক শিকড়ে আঘাত মানে বিশ্বমানবতার বন্ধনের মূলে আঘাত।”

বিজেপি ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের ইউনুস সরকারকে দোষারোপ করে এটিকে জামাত-এ-ইসলামি ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের চক্রান্ত বলে দাবি করেছে।

(পিটিআই)