পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল মহকুমায় সাম্প্রতিক বন্যায় প্রায় ২ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভূঁইয়া। তিনি জানান, রাজ্য সরকার marooned (বিচ্ছিন্ন) মানুষদের সাহায্যে সবরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে। ইতিমধ্যে ২,০০০ জনকে উদ্ধার করে ত্রাণ শিবিরে আনা হয়েছে এবং তাঁদের জন্য কমিউনিটি কিচেন চালু হয়েছে। চন্দ্রকোনা-১ ও ২ ব্লকে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে; তাঁরা জলের স্রোতে ভেসে গিয়েছিলেন।
মন্ত্রী মানস ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, ঝাড়খণ্ডের ডিভিসি (Damodar Valley Corporation) বাঁধ থেকে জল ছাড়ার বিষয়ে রাজ্যের অনুরোধ সত্ত্বেও যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না রাখায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তিনি ডিভিসি-র চেয়ারম্যানকে ভবিষ্যতে জল ছাড়ার আগে সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানিয়ে চিঠিও লিখেছেন।
ঘাটালের পরিস্থিতিকে ১৯৭৮ সালের পর সবচেয়ে খারাপ বলে বর্ণনা করেছেন ভূঁইয়া। ঘাটাল-১, চন্দ্রকোনা-১ ও আরও দুটি ব্লকের মোট ১৮৮টি গ্রাম গত চার দিন ধরে জলের নিচে। পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলেও বহু মানুষ এখনও জলবন্দি। উদ্ধারকাজে ১০টি স্পিডবোট, SDRF, সিভিল ডিফেন্স ও NDRF-র দল মোতায়েন হয়েছে।
মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান অনুমোদন করলেও অর্থ ছাড়েনি। রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে ১,৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে এবং ২০২৫-২৬ বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। ইতিমধ্যে পাঁচটি স্লুইস গেটের নির্মাণ ৬০-৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, খাল ও নদীর ড্রেজিং চলছে, এবং প্রকল্পটি ২০২৭ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “কেন্দ্রের অবহেলার কারণে ঘাটাল বারবার প্লাবিত হচ্ছে। রাজ্য সরকার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর, যদিও কেন্দ্র কোনো সহায়তা করেনি।”
অন্যদিকে, বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণের নির্দেশ দিয়েছেন।

