কলকাতা গণধর্ষণ: বিতর্কিত মন্তব্য তৃণমূল নেতাদের, দল নিজেকে দূরে সরাল

কলকাতা, ২৮ জুন (পিটিআই) — এক আইন কলেজের ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিতর্কিত মন্তব্যের পর, শনিবার দলের প্রবীণ নেতা ও বিধায়ক মদন মিত্র বলেন, “যদি ওই ছাত্রী কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে যেত বা কাউকে জানিয়ে যেত, তাহলে এই ঘটনা ঘটত না।”

মদন মিত্র বলেন, “এই ঘটনাটি মেয়েদের জন্য বার্তা—যদি কলেজ বন্ধ থাকে এবং কেউ ডাকে, সেখানে যেও না, কিছু ভালো হবে না। যদি ওই মেয়ে সেখানে না যেত, তাহলে এই ঘটনা ঘটত না। যদি সে কাউকে জানিয়ে যেত বা কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে যেত, তাহলে এই ঘটনা ঘটত না। যে এই নোংরা কাজ করেছে, সে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে।”

শুক্রবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “বন্ধু যদি বন্ধুকে ধর্ষণ করে, তাহলে নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়? স্কুলে কি পুলিশ থাকবে? ছাত্ররা ছাত্রীর সঙ্গে করেছে। কে তার (ভুক্তভোগী) সুরক্ষা দেবে?”

তৃণমূল কংগ্রেস দুই নেতার মন্তব্যকে ব্যক্তিগত বলে দাবি করে এবং তাদের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করে নিজেকে স্পষ্টভাবে দূরে সরিয়ে নেয়। দলের পক্ষ থেকে এক্স-এ পোস্ট করা হয়, “দক্ষিণ কলকাতা ল’ কলেজের ভয়াবহ অপরাধ নিয়ে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধায়ক মদন মিত্রের মন্তব্য তাঁদের ব্যক্তিগত। দল এই মন্তব্যের সঙ্গে কোনোভাবেই একমত নয় এবং দৃঢ়ভাবে নিন্দা করছে। এই মতামত কোনোভাবেই দলের অবস্থান প্রতিফলিত করে না।”

এরপরই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স-এ প্রশ্ন তোলেন, “দল কি পরোক্ষভাবে সেই সব নেতাদের সমর্থন করছে, যারা অপরাধীদের আড়াল করছে?” তিনি দলের অবস্থান থেকেও নিজেকে দূরে রাখেন।

মদন মিত্রও এক্স-এ লেখেন, তাঁর বক্তব্যকে “একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গোষ্ঠী” বিকৃত করে তাঁর ও দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে।

তিনি লেখেন, “…আমার বক্তব্যকে সম্পূর্ণ বিকৃত ও অপব্যবহার করা হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল আমাদের দল তৃণমূল কংগ্রেসের ভাবমূর্তি নষ্ট করা।”