কলকাতা, ৩০ জুন (পিটিআই) — কলকাতার এক আইন কলেজের ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন অভিযুক্তের ডিএনএ নমুনা সোমবার সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৪ বছর বয়সী ওই তরুণীর উপর অত্যাচার পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার তিন অভিযুক্ত—প্রাক্তন ছাত্র মনোজিত মিশ্র, বর্তমান ছাত্র প্রতিম মুখার্জি ও জায়েদ আহমেদ—কে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের শরীরের তরল, প্রস্রাব ও চুলের নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়।
এই প্রক্রিয়া প্রায় আট ঘণ্টা ধরে চলে। শনিবারও তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তখন ডাক্তাররা তাঁদের নখ ও শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন আছে কিনা তা পরীক্ষা করেন।
দক্ষিণ কলকাতা ল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রীকে ২৫ জুন সন্ধ্যায় কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।
অভিযুক্তদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন থেকে ১.৫ মিনিটের একটি নির্যাতনের ভিডিও ক্লিপও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্তরা আগেও কলেজের ছাত্রীদের যৌন হেনস্থা করত এবং সেই ভিডিও মোবাইলে রেকর্ড করে পরে ব্ল্যাকমেল করত।
পুলিশ জানিয়েছে, এই অপরাধটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ছিল। মূল অভিযুক্ত মিশ্র ভুক্তভোগী ছাত্রী কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রথম দিন থেকেই তাকে লক্ষ্য করেছিল।
অভিযুক্তদের মধ্যে চতুর্থ জন হলেন কলেজের নিরাপত্তারক্ষী।
বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) সদস্যরা আরও জানিয়েছেন, ২৫ জুন সন্ধ্যায় দক্ষিণ কলকাতা ল কলেজে উপস্থিত থাকা ২৫ জনেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রীর তালিকা তৈরি করা হয়েছে, এবং তাঁদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এদিকে, রাজ্য শিক্ষা দপ্তর সোমবার মিশ্রকে কলেজের চুক্তিভিত্তিক কর্মীর পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার সুপারিশ করেছে।
তদন্ত চলছে, এবং পুলিশ আরও ভিডিও ও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

