
রিও ডি জেনেইরো, ৭ জুলাই (PTI): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল বার্মুদেজ রবিবার ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে অনুষ্ঠিত ১৭তম ব্রিকস সম্মেলনের সাইডলাইনে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে দুই নেতা ওষুধ, জৈবপ্রযুক্তি, প্রথাগত চিকিৎসা এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
আলোচনার মূল বিষয়সমূহ
- ওষুধ ও জৈবপ্রযুক্তি: দুই দেশ ওষুধ উৎপাদন, জৈবপ্রযুক্তি গবেষণা ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
- প্রথাগত চিকিৎসা ও আয়ুর্বেদ: কিউবায় আয়ুর্বেদ ও ভারতীয় প্রথাগত চিকিৎসা পদ্ধতির প্রসার এবং সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সংযোজনের বিষয়ে আলোচনা হয়।
- ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও UPI: কিউবার প্রেসিডেন্ট ভারতের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও ইউনিফায়েড পেমেন্ট ইন্টারফেস (UPI) ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন। দুই দেশ ডিজিটাল অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি: দুর্যোগ মোকাবিলা, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা হয়।
- গ্লোবাল সাউথের উদ্বেগ: স্বাস্থ্য, মহামারী ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন দুই নেতা।
বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
- দুই দেশ বহুপাক্ষিক মঞ্চে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও গভীর করার কথা বলেন।
- প্রধানমন্ত্রী মোদি কিউবাকে ভারতীয় ফার্মাকোপিয়া স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব দেন, যাতে ভারতীয় জেনেরিক ওষুধ কিউবার বাজারে প্রবেশ সহজ হয়।
- কিউবা আয়ুর্বেদকে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার আগ্রহ দেখিয়েছে।
সরকারী বিবৃতি
বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কিউবার প্রেসিডেন্ট দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জৈবপ্রযুক্তি, ওষুধ, আয়ুর্বেদ ও প্রথাগত চিকিৎসা, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও UPI, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি।”
সংক্ষিপ্তসার:
ভারত ও কিউবার মধ্যে ওষুধ, জৈবপ্রযুক্তি, আয়ুর্বেদ, ডিজিটাল অর্থনীতি ও গ্লোবাল সাউথের ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপারে একমত হয়েছেন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা। এই বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
