প্রধান তথ্য
- Pew Research Centre-এর সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, বৈশ্বিকভাবে অনেক দেশে চীন ও তার নেতা শি জিনপিং-এর ইতিবাচক ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পেয়েছে, বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রতি মনোভাব কমেছে।
- ২০২০ সালের পর এই প্রথম দুই শক্তিধর দেশের ও তাদের নেতাদের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি এত কাছাকাছি এসেছে—যেখানে বিগত কিছু বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও সেই সময়ের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অনেক বেশি জনপ্রিয় ছিলেন।
জরিপের মূল ফলাফল
| সূচক | গত বছর | এ বছর |
|---|---|---|
| যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব (১০ উন্নত দেশ) | ৫১% | ৩৫% |
| চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব (তাদের মধ্যে) | ২৩% | ৩২% |
| ট্রাম্পের প্রতি আস্থা | ৫৩% | ২৪% |
| শি জিনপিং-এর প্রতি আস্থা | ১৭% | ২২% |
- ২৪টি দেশের মধ্যে ৮টি দেশে যুক্তরাষ্ট্র, ৭টি দেশে চীন-কে বেশি পছন্দ করা হয়েছে, বাকিগুলোতে উভয়ের প্রতি মনোভাব প্রায় সমান।
- জরিপে ৩০,০০০-এর বেশি ব্যক্তিকে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে (৮ জানুয়ারি থেকে ২৬ এপ্রিল)।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- ইজরায়েলে ব্যতিক্রম: সেখানে ৮৩% মানুষ যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক, চীনের ক্ষেত্রে তা ৩৩%। ট্রাম্পকে ৬৯% ইজরায়েলি আস্থা দিয়েছেন, শি জিনপিং-এর জন্য এই হার শুধুমাত্র ৯%।
- পরিবর্তনের নির্দিষ্ট কারণ জরিপে উল্লেখ করা হয়নি, কিন্তু Pew-এর গবেষক লোরা সিলভার জানিয়েছেন: “যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কম নির্ভরযোগ্য পার্টনার হিসেবে দেখা যায়, এবং ট্রাম্পের ওপর অর্থনীতি পরিচালনার আস্থা কমে যায়, তাহলে চীনের প্রতি মনোভাবও পরিবর্তিত হতে পারে।”
- পূর্বে চীনের মানবাধিকার নীতি ও মহামারী সংক্রান্ত নেতিবাচক মনোভাব এবার ততটা প্রভাব ফেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নীতিমালার প্রভাব
- ডেমোক্রেটিক সেনেটরদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর ওপর ট্যারিফ আরোপ, বিদেশি সহায়তা কমানো, বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক ছাত্রদের ওপর বিধিনিষেধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাব ক্ষয়ে গেছে, যা চীনের অবস্থানকে মজবুত করেছে।
সিদ্ধান্ত
এই জরিপ স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয়, বিশ্ব রাজনীতির গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে—যুক্তরাষ্ট্র ও তার নেতার জনপ্রিয়তা কমেছে, চীন ও শি জিনপিং-এর ভাবমূর্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হলেও কিছুটা বেড়েছে। এ পরিবর্তন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রার সূচনা করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

