ট্রাম্পের মন্তব্য: BRICS ও ডলারের আধিপত্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি
নিউ ইয়র্ক/ওয়াশিংটন, ১৯ জুলাই (PTI) — মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প BRICS-কে ‘ছোটো গ্রুপ’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এই গোষ্ঠী “ডলারের আধিপত্য” চ্যালেঞ্জ করতে চায়। তিনি হুমকি দিয়েছেন, BRICS সদস্য দেশগুলি যদি এ ধরনের চেষ্টা করে, তাহলে তাদের রপ্তানিপণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। গত দশ দিনে এটি দ্বিতীয়বার, যখন ট্রাম্প ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ BRICS দেশগুলিকে ১০ শতাংশ শুল্কের হুমকি দিলেন.
“…আপনাদের সামনে এই ছোটো গ্রুপ BRICS আছে। এটি দ্রুত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছে; BRICS চায় ডলারের আধিপত্য ও মানদণ্ড দখল করতে… আমি বলেছি, BRICS কনসোর্টিয়ামের যে কোনো দেশ হলে, আমরা ১০ শতাংশ ট্যারিফ বসাব,” ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে GENIUS Act স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে বলেন, যার মাধ্যমে প্রথমবার কোনও ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত আইন কার্যকর হলো।
BRICS সম্মেলন ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের প্রাথমিক শুল্কের ঘোষণা পরবর্তী সপ্তাহে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে BRICS সম্মেলনে ব্লকটি যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা ঘোষণার কঠোর নিন্দা জানায় এবং জানায়, এই ট্যারিফ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) নিয়মের সাথে অসঙ্গত এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য হুমিকর.
ডলারের গুরুত্ব ও ট্রাম্পের বার্তা
ট্রাম্প বলেন,
“BRICS দেশগুলোর বৈঠকের পরে, কার্যত কেউ হাজির হয়নি। তারা ট্যারিফের ভয় পেয়েছিল… আমরা কখনোই ডলারকে পড়তে দেব না। যদি আমাদের কাছে স্মার্ট প্রেসিডেন্ট থাকে, কখনওই ডলার দুর্বল হতে দেবে না… যদি BRICS সত্যিই একত্রিত হয়, খুব দ্রুত তা শেষ হয়ে যাবে; তারা আমার ভয় পায়।”
তিনি ডলারের ‘বিশ্বের সংরক্ষণ মুদ্রা’ হিসেবে গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরেন এবং বলেন, এর আধিপত্য হারানোটা “বিশ্বযুদ্ধ হারানোর” মত হবে.
সম্প্রসারিত BRICS সদস্য ও সাম্প্রতিক অগ্রগতি
BRICS এখন শুধুমাত্র পাঁচ দেশ নয়— সম্প্রসারণের ফলে মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়াও সদস্য হয়েছে। জুলাইয়ের শুরুতে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ১৭তম BRICS সম্মেলনে, নেতারা একত্রিত হন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের নির্ভরতাকে কমানোর বিষয়ে আলোচনা করেন.
ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি
এই সময়, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (BTA) নিয়ে পঞ্চম দফার আলোচনা ১৪-১৭ জুলাই ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা ১ আগস্টের আগেই একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে, কারণ ওই তারিখে ট্রাম্প-উদ্দেশিত শুল্কের সাময়িক স্থগিতাদেশ শেষ হচ্ছে.
- আলোচনায় কৃষি, অটোমোবাইল, হাই-টেক বানিজ্য ও বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা হয়েছে।
- চুক্তি না হলে, ভারতের ওপরও ২৬ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক কার্যকর হতে পারে।
নোট: BRICS সম্প্রসারণের ফলে, তাদের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব অনেক বেড়েছে, যদিও সদস্যদের মধ্যে মতানৈক্য ব্যবস্থা গঠন ও লক্ষ্য অর্জনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
এই প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক সম্প্রসারিত BRICS ব্লক, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড পলিসি ও সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনা নিয়ে বিশেষভাবে তথ্যভিত্তিক সংক্ষেপণ করছে।

