পশ্চিমবঙ্গের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি প্রেমীদের প্ল্যাটফর্ম অলিপুর চিড়িয়াখানাকে বাঁচাতে আন্দোলন জোরদারের প্রতিশ্রুতি

কলকাতা, ২৪ জুলাই (PTI) — পশ্চিমবঙ্গ ভিত্তিক বায়োডাইভার্সিটি advocacy প্ল্যাটফর্ম Save Wild Animals of ZOO and Our Nature (SWAZON) বৃহস্পতিবার অলিপুর চিড়িয়াখানার সামনে একটি প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। তারা চিড়িয়াখানায় প্রাণী প্রজাতির উল্লেখযোগ্য হ্রাসের কারণ অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছে।

SWAZON-এর তথ্য অনুযায়ী, অলিপুর চিড়িয়াখানায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরের শেষে প্রাণী প্রজাতির সংখ্যা ছিল ৬৭২, যা ২০২৫ সালের শুরুতে কমে মাত্র ৩৫১-এ নেমে এসেছে। সংগঠনটি চিড়িয়াখানার বৈচিত্র্যময় জীববৈচিত্র্য নষ্ট করার কোনো প্রচেষ্টা রোধ করার জন্য এবং স্বচ্ছতা আনার জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

১ জুলাই তারা কলকাতা হাইকোর্টে একটি পিটিশন দায়ের করেছে, যাতে চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষকে প্রাণী প্রজাতির সঠিক সংখ্যা জানাতে, কোনো বড় পতন ঘটেছে কিনা ও তার কারণ নির্ধারণে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

SWAZON-এর একজন মুখপাত্র PTI-কে বলেন,
“আমরা ৩০ জুলাই চিড়িয়াখানার গেটে ‘সেভ দ্য চিড়িয়াখানা’ উদ্যোগের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ ডেকেছি। যারা সবুজ পরিবেশ রক্ষার প্রতি আগ্রহী, সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আশা করি বন দফতর পশু কল্যাণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে অগ্রাধিকার দিবে।”

অলিপুর চিড়িয়াখানা ১৫০ বছর পুরনো এক ঐতিহাসিক ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান, যা বাণিজ্যিক কাজে রূপান্তরের যেকোনো প্রচেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়েছে এই প্ল্যাটফর্ম।

তারা আরও উল্লেখ করেছে, গত দশকেই প্রজাতির সংখ্যা ১,৪৫২ থেকে কমে ৩৫১-এ নেমে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি চিড়িয়াখানার আশেপাশের জমির বাণিজ্যিকায়নের সম্ভাব্য প্রচেষ্টার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে সংযুক্ত।

কলকাতা শহরের সবুজ এলাকার সংকোচনের কথাও তুলে ধরেছে SWAZON। শহরটিতে মাথাপিছু খোলা স্থান মাত্র ১ শতাংশের নিচে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৯ বর্গমিটার সুপারিশকৃত মানের থেকে অনেক কম।

কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ (CZA) কর্তৃক এই প্রজাতি সংখ্যা হ্রাসের বিষয়টি সামনে আসার পর এই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের শেষে প্রাণীর সংখ্যা ছিল ৬৭২, যা ২০২৫ সালের শুরুতে কমে ৩৫১-এ এবং বর্তমানে প্রায় ৩২১-এ দাঁড়িয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ বন দফতর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে এখন আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। রাজ্যের প্রধান বন্যপ্রাণী রক্ষী এস. সুন্দরিয়াল বলেন,
“আমরা বিষয়টিতে খুবই সতর্ক। সকল তথ্য আমরা চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ থেকে সংগ্রহ করেছি। যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

অলিপুর চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষ একে গণনার একটি সরল ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং এটিকে শীঘ্রই সঠিক করার আশ্বাস দিয়েছে। চিড়িয়াখানা পরিচালক অরুণ মুখার্জী আগে বলেছিলেন, “বিষয়টি বিচারাধীন, তাই আমি আর মন্তব্য করব না।”

অফিসিয়াল সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গ বন দফতর এই ১৪৯ বছর পুরনো প্রতিষ্ঠানের ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রাণী তালিকার অসঙ্গতির তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

অন্যদিকে, ব্যক্তি ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরের আওতাধীন WBHIDCO অলিপুর চিড়িয়াখানার নিকটবর্তী বেলভিডিয়ার রোডের জমি ই-লিলাম বাতিল করেছে, যা এই এলাকায় বাণিজ্যিক উন্নয়নের সম্ভাবনা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ইস্যুতে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে SWAZON এবং অন্যান্য পরিবেশ রক্ষাকারী সংগঠনগুলো অলিপুর চিড়িয়াখানার জীববৈচিত্র্য ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে তাদের আন্দোলন জোরদার করবে বলে ঘোষণা করেছে।

#swadesi
#News
#AliporeZoo
#WildlifeConservation
#SWAZON
#BiodiversityLoss
#WestBengalEnvironment
#ZooInquiry
#EnvironmentalActivism
#BreakingNews