অগস্ট ২০২৫-এর এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী-গায়িকা শ্রুতি হাসান দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা এবং বলিউডের মধ্যে বিদ্যমান সাংস্কৃতিক ও মানসিক পার্থক্য নিয়ে বিস্তারিত বললেন। তাঁর মতে দক্ষিণী সিনেমার আসল বৈশিষ্ট্য নম্রতা ও মাটির সঙ্গে যুক্ত থাকা। কমল হাসান ও সারিকার মেয়ে শ্রুতি, কুলি ও সালার-এর মতো ছবির প্যান-ইন্ডিয়ান তারকা। তিনি বলেন, দক্ষিণী অভিনেতাদের এই বিনয় আসে দেবীর আশীর্বাদ হারানোর ভয় থেকে, যেখানে বলিউড অনেক বেশি চাকচিক্যপূর্ণ। তাঁর এই মন্তব্য আসে কুলি ছবির সাফল্যের সময়, যা অগস্ট ২০২৫-এ ₹২০০ কোটির বেশি আয় করেছে। শ্রুতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির কৃতিত্ব দেন সঙ্গীত শিক্ষার অভিজ্ঞতা এবং তামিল-তেলুগু সিনেমার কাজকে।
দক্ষিণী পরিচয় : বিনয়
১৯ অগস্ট ২০২৫-এ এক সাংবাদিককে শ্রুতি হাসান বলেন, দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার সঙ্গে বিনয় অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তিনি রজনীকান্ত ও পবন কল্যাণের উদাহরণ দিয়ে বলেন যে তারা বিশ্বাস করেন যদি তারা মাটির কাছাকাছি না থাকেন তবে “সরস্বতীর হাত মাথা থেকে সরে যাবে”। শ্রুতির কথায়, “তাদের মনে হয়, যদি তারা বিনয়ী না থাকেন তবে সাফল্য মুহূর্তেই উধাও হয়ে যাবে।” অন্যদিকে বলিউডে চাকচিক্য ও আড়ম্বর বেশি দেখা যায়। তিনি জানান, দক্ষিণী অভিনেতারা যত ধনীই হোন না কেন, অনেক সময় পুরনো অ্যাম্বাসাডর গাড়ি ব্যবহার করেন এবং সহজ-সরল জীবনযাপন করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বক্তব্যের প্রশংসা হয় এবং দক্ষিণী তারকাদের সরলতার প্রশংসা ঝড় তোলে।
শিল্প সিংহাসন নয়, এক বাহন
শ্রুতি জানান যে তাঁর প্রাথমিক সঙ্গীত শিক্ষা তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিকে গড়ে তুলেছে। তিনি বলেন – “সঙ্গীত শিখে আমি বুঝেছি যে আমার নিজের অংশটুকু পালন করতে হবে, অন্যদের ছাড়িয়ে যাওয়া নয়। আর সব সময় বিনয়ী থাকতে হবে।” তাঁর মতে শিল্পীরা শিল্পের বাহক, মালিক নয়। দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় এই ধারণা বেশি স্পষ্ট, যেখানে গল্প ও সম্মিলিত কাজ ব্যক্তিগত অহংকারের উপরে স্থান পায়। এর বিপরীতে বলিউডে প্রায়শই গ্ল্যামার ও আত্ম-প্রচারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। কুলি ছবিতে, যেখানে রজনীকান্তও ছিলেন, শ্রুতি পরিচালক লোকেশ কানাগারাজের অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন।
বলিউডের চ্যালেঞ্জ ও শ্রুতির পথচলা
বলিউডে তাঁর ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে (লাক – ২০০৯, বেহেন হোগি তেরি – ২০১৭), শ্রুতি বলেন – “আমি জানি না কেন সেটা কাজ করেনি।” তিনি ভুল প্রজেক্ট বেছে নেওয়া ও সময়সূচির জটিলতাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। শ্রুতি আরও জানান যে বলিউডে উত্তর-দক্ষিণ বিভাজন রয়েছে, যেখানে দক্ষিণী অভিনেতারা প্রায়শই বহিরাগত মনে করেন। তবে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সেই ফারাক ঘুচিয়ে দিয়েছে এবং তিনি ভবিষ্যতের হিন্দি প্রজেক্ট নিয়ে আশাবাদী। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও অনেকেই বলেন যে বলিউড এখনো কেজিএফ বা পুষ্পা-র মতো দক্ষিণী সিনেমার বাস্তব গল্প বলার ক্ষমতার সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি।
সাংস্কৃতিক বিভাজন, কিন্তু উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ
শ্রুতির মতে দক্ষিণী সিনেমার শিকড় রয়েছে সাংস্কৃতিক বিনয় ও শিল্পের প্রতি সম্মিলিত শ্রদ্ধায়, অন্যদিকে বলিউডে বেশি দেখা যায় প্রতিযোগিতামূলক ব্যক্তিবাদ। ইন্ডিয়া টুডে-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-এ ৬৫% দর্শক দক্ষিণী সিনেমাকে বেশি পছন্দ করছেন তার বাস্তবতার কারণে। তবে বলিউডের বৈশ্বিক প্রসার এবং পরিবর্তিত ওটিটি দুনিয়া ভবিষ্যতে সমন্বয়ের আশা জাগাচ্ছে। প্রশ্ন হলো, শ্রুতির এই পর্যবেক্ষণ কি বলিউডকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে, নাকি সাংস্কৃতিক ফারাক আরও বাড়াবে? তাঁর আসন্ন ছবি দ্য আই এবং কুলি প্রমাণ দিচ্ছে যে তিনি দুই জগতকেই সেতুবন্ধনের মতো যুক্ত করছেন।
— মনোজ হ

