কলকাতা, ৮ সেপ্টেম্বর (পিটিআই) রবিবার গভীর রাতে শহর ও দেশের অন্যান্য অংশে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের সময় প্রায় এক ঘন্টারও বেশি সময় ধরে পূর্ণিমার চাঁদ অন্ধকার হয়ে ছিল।
খ্যাতনামা জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং এম পি বিরলা প্ল্যানেটোরিয়ামের প্রাক্তন পরিচালক দেবীপ্রসাদ দুয়ারী জানান, রাত ৮টা ৫৮ মিনিটে চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার অর্ধ-অন্ধকার অঞ্চল (পেনাম্ব্রা) তে প্রবেশ করলে এই গ্রহণ শুরু হয়।
তিনি বলেন, খালি চোখে পেনাম্ব্রাল গ্রহণ বোঝা অনেক সময় কঠিন হয় কারণ পূর্ণিমার আলো সামান্য কমে যায়। “রাত ৯টা ৫৭ মিনিট নাগাদ চাঁদ আংশিকভাবে ঢাকা পড়তে শুরু করে এবং ঠিক রাত ১১টায় সম্পূর্ণ গ্রহণ হয়, যখন চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার মূল অন্ধকার অংশে (আম্ব্রা) প্রবেশ করে,” ব্যাখ্যা করেন দুয়ারী।
পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ রাত ১২টা ২২ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এরপর এটি আংশিক গ্রহণে রূপ নেয় এবং ধীরে ধীরে শেষ হয়। অবশেষে রাত ১টা ২৬ মিনিটে (৭-৮ সেপ্টেম্বরের মাঝরাতে) পূর্ণ চাঁদ আবার সাদা উজ্জ্বল আলোয় জ্বলজ্বল করতে থাকে। পেনাম্ব্রাল গ্রহণ শেষ হয় ভোর ২টা ২৫ মিনিটে।
দুয়ারী ব্যাখ্যা করেন, “গ्रहণের সময় চাঁদের লালচে রং তখনই বেশি স্পষ্ট হয় যখন চাঁদ দিগন্তের কাছে থাকে। তখন চাঁদের আলোকে বায়ুমণ্ডলের বড় অংশ অতিক্রম করতে হয়, ফলে লাল-কমলা রঙ আরও গাঢ় হয়ে ওঠে।”
৭ সেপ্টেম্বর রাতে এশিয়া, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের কিছু অংশের মানুষ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ ও রক্তচাঁদ (ব্লাড মুন) এর দুর্দান্ত দৃশ্য উপভোগ করেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা এই ঘটনায় চাঁদ ধীরে ধীরে পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে এবং প্রায় ১ ঘণ্টা ২২ মিনিট ধরে তামাটে-লাল রঙে আবৃত থাকে। এটি ছিল ২০২২ সালের পর থেকে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ।
চন্দ্রগ্রহণ ঘটে যখন সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ সরলরেখায় অবস্থান করে এবং চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করে। চাঁদের কক্ষপথ সূর্য-পৃথিবীর কক্ষপথের সমতল থেকে সামান্য হেলে থাকার কারণে প্রতিটি পূর্ণিমায় গ্রহণ হয় না।
এই খগোলীয় দৃশ্য দেখার জন্য কলকাতা ও বাংলার গ্রামাঞ্চলে মানুষ ছাদে এবং খোলা মাঠে জড়ো হয়। অন্যদিকে, শহরের বিরলা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়াম ছাত্র-যুবক ও বিজ্ঞান-অনুরাগীদের জন্য তিন ঘণ্টার দূরবীন-সহ লাইভ প্রদর্শনের আয়োজন করে।
শ্রেণী: ব্রেকিং নিউজ
এসইও ট্যাগস: #স্বদেশী, #সংবাদ, দেশব্যাপী পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণে অংশ নিল কলকাতা

